মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে আগামীকাল ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন নদী ও সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। অর্থাৎ বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে মা ইলিশ রক্ষা ও মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মৎস্য বিভাগ, জেলে, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বরিশাল সার্কিট হাউস মিলনায়তনে বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে ‘মা ইলিশ রক্ষা ও টেকসই মৎস্যসম্পদ’ বিষয়ে বিভাগীয় জনসচেতনতামূলক সভায় এসব কথা বলা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ। আরও বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার (অপারেশন্স) কাজী মো. ছোয়াইব, বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সভায় বক্তারা বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদ। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন কমে যেতে পারে। তাই প্রজননকালীন ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।
বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সুরক্ষা নিশ্চিত করা মানে আগামী দিনের মৎস্যসম্পদকে নিরাপদ রাখা। প্রজননের সময় মাছ ধরা হলে ভবিষ্যতে ইলিশের সংখ্যা কমে যেতে পারে। এ কারণে এই সময়ের সংরক্ষণকে সাময়িক বিধিনিষেধ হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি ভবিষ্যতের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।
তিনি বলেন, মা ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু মৎস্যজীবী বা মৎস্য বিভাগের নয়। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণ— সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণই নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়নের চাবিকাঠি।
সভায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদ-নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধ, পরিবহন ও বিপণন নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
