কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবি ও জনতার বাঁধায় পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে আবারও বাংলাদেশে অবৈধভাবে লোক পুশইনের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সীমান্তবাসী জনতার তীব্র প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এ নিয়ে চলতি জুন মাসে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে মোট চার দফায় পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ ঘাট এলাকার ১৫৪/১০-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকায় আলী আজগর (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তিনি ঢাকার মিরপুর এলাকার মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে বলে নিজেকে দাবি করেছেন।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানার ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মধুগাড়ী ক্যাম্পের জোয়ানরা ওই বৃদ্ধকে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে মাঠে কর্মরত স্থানীয় কৃষক ও কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধীনস্থ রামকৃষ্ণপুর বিওপির টহল দল তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিজিবি ও স্থানীয়দের অনড় অবস্থানে বিএসএফ বাধ্য হয়ে পিছু হটে। বর্তমানে ওই ব্যক্তি ভারত সীমান্তের ৫০ গজ অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।
কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বিষয়টি নিশ্চিত করে এশিয়া পোস্টকে বলেন, বৃহস্পতিবার আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত দিয়ে ১০ জন এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ১ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থান এবং তীব্র বাধার মুখে সেই প্রচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হয়নি।
এর আগে গত ১২ জুন ভোরে দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। তখনও বিজিবি ও স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা ঢুকতে পারেনি। পরে ১৫ জুন সকালে সীমান্তে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখোমুখি অবস্থানের পর বিজিবি ও স্থানীয়দের অনড় মনোভাবের মুখে বিএসএফ পিছু হটে এবং ওই ১২ জনকে ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটা তারের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
এ ছাড়া গত ১৪ জুন ভোরে মহিষকুন্ডি ইউনিয়নের চল্লিশপাড়া বিওপির আওতাধীন ৮৫/১৩-এস সীমান্ত পিলার এলাকায় আরও একজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ তাকে পুনরায় নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।





