logo

ময়মনসিংহে ধর্ষণের প্রধান আসামির বাড়ি ভাঙচুরের পর তিনজনের বাড়িতে আগুন

ময়মনসিংহে ধর্ষণের প্রধান আসামির বাড়ি ভাঙচুরের পর তিনজনের বাড়িতে আগুন
আগুড়ে যাওয়া বাড়ি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ময়মনসিংহে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি শরফের (২৩) বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করার পর আরও তিন আসামির বাড়ির চারটি ঘরে আগুন দিয়েছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেলার গফরগাঁও উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি ও আকন্দপাড়া এলাকায় তাদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান শেখ এশিয়া পোস্টকে জানান, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সন্ধ্যায় মামলার এজাহার নামীয় আসামি চর কালিবাড়ি এলাকার ফাহিম (২২), রাজিব (২৩) ও আকন্দপাড়া এলাকার আসামি এনামুলের (২২) বাড়িতে আগুন দেয়। এসময় মালামালসহ চারটি ঘর পুড়ে যায়। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় পাঁচ যুবক প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়িতে গিয়ে তার ১৪ বছর বয়সি ছেলের (নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী) কাছে পানি চান। ওই কিশোর পানি নিয়ে দরজার কাছে এলে যুবকেরা অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে। পরে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে ঘরে ঢোকে তারা।

তখন অস্ত্রের মুখে পরিবারের নারী সদস্যকে জিম্মি করে আলমারি ভেঙে নগদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়। এরপর ওই নারীকে তার ছেলের সামনে নিয়ে গিয়ে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পরদিন শুক্রবার রাতে ধর্ষণের শিকার নারী বাদী হয়ে চর কালিবাড়ি এলাকার শরীফ (২৩), আরিফ (২১), ফাহিম (২২), রাজিব (২৩) ও এনামুলের (২২) নাম উল্লেখ করে গফরগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গফরগাঁও প্রেসক্লাবের সামনে চরআলগী ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে ধর্ষণকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন অভিযুক্তদের একজন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনা কাউকে জানালে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ডাকাতেরা চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে যান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান শেখ এশিয়া পোস্টকে বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে অন্য আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিতে এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে আসামি রাজিবকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।