মিয়ানমার থেকে আসছে বিকট শব্দ, নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কক্সবাজার
মিয়ানমার থেকে আসছে বিকট শব্দ, নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি
সীমান্ত নজরদারিতে বিজিবি। বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির বিকট শব্দের খবর পাওয়া যাচ্ছে। রাজ্যটির এপারে বাংলাদেশের দুটি সীমান্ত এলাকা কক্সবাজারের টেকনাফ ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাসিন্দারা এসব শব্দ শুনতে পাচ্ছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে টেকনাফে নাফ নদের বিভিন্ন পয়েন্টে নৌ-টহল জোরদার করে বিজিবি। একই সঙ্গে ড্রোনের সহায়তায় সীমান্তজুড়ে নজরদারি চালানো হয়।

এদিন সকালে রাখাইনের মংডু এলাকায় বিমান হামলার একটি ভিডিও রোহিঙ্গাদের যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের মতে, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তেও একই ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল।

প্রশাসন ও টেকনাফের একাধিক বাসিন্দা জানান, বুধবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ওপার থেকে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির বিকট শব্দ ভেসে আসে। টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়া, নাইট্যংপাড়া, নাজিরপাড়া, সাবরাং ও শাহপরীর দ্বীপ এলাকা থেকে এসব শব্দ শোনা যায়। রাত ১১টার পর এমন কোনো শব্দ পাওয়া যায়নি।

সীমান্ত নজরদারিতে বিজিবি। বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদে। ছবি: এশিয়া পোস্ট
সীমান্ত নজরদারিতে বিজিবি। বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, প্রায় আট মাস ধরে সীমান্তে এমন কোনো শব্দ শোনা যায়নি। বুধবার রাতে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে যুদ্ধবিমানের উড়াউড়ির শব্দও শোনা যায়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা সামি জাবেদ বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কোনো শব্দ শোনা যায়নি। বিজিবি সতর্ক অবস্থানে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

জালিয়াপাড়ার আরেক বাসিন্দা দিল মোহাম্মদ বলেন, মিয়ানমারে সংঘাত শুরু হলেই সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

বিজিবি জানায়, নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়াসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় টহল পরিচালনা করা হয়েছে। নাফ নদে নৌ টহল জোরদার এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়েছে।

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সীমান্ত নজরদারিতে বিজিবি। বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদে। ছবি: এশিয়া পোস্ট
সীমান্ত নজরদারিতে বিজিবি। বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি প্রশাসনের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

টেকনাফের পাশাপাশি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্ত এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা।

তুমব্রু সীমান্তের চেরার মাঠ এলাকার ছৈয়দুল বশর জানান, মিয়ানমার অভ্যন্তরে যুদ্ধবিমানের শব্দ এবং বোমা নিক্ষেপের বিকট আওয়াজ তারা শুনেছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি-১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, ওপারের সংঘর্ষ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাসী। দেশের ভূখণ্ড নিরাপদ রাখতে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং দিনরাত টহল অব্যাহত রয়েছে।