লালমনিরহাটে চার দিন ধরে নেই বিদ্যুৎ, দুর্ভোগে ৫০ হাজার মানুষ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, লালমনিরহাট
লালমনিরহাটে চার দিন ধরে নেই বিদ্যুৎ, দুর্ভোগে ৫০ হাজার মানুষ
নতুন ট্রান্সফর্মার প্রতিস্থাপনে কাজ করা হয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক গত চার দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। দীর্ঘ ৯২ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে ঢাকা থেকে আনা নতুন ট্রান্সফর্মার প্রতিস্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িক চালু করা হলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই তা আবার বিকল হয়ে পড়ে। ফলে নতুন করে আবারও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে পড়েছেন অন্তত ৫০ হাজার মানুষ।

এর আগে গত সোমবার (২৯ জুন) বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে লালমনিরহাটের আদিতমারী-২ (হাজীগঞ্জ) সাব-স্টেশনের ১০ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রধান ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে যায়। এর ফলে আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ওই এলাকাগুলোতে তীব্র খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। সেচ দিতে না পারায় শুকিয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি। এছাড়া তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিদ্যুৎহীনতায় এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে; ফ্রিজে রাখা সংরক্ষিত খাবার ও মালামাল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনাও। আজ বিকেলে বিদ্যুৎ আসার পর স্বস্তি ফিরলেও, তা কয়েক মিনিটের মাথায় আবারও চলে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মুহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বজ্রপাতে ১০ এমভিএ ট্রান্সফরমারটি বিকল হওয়ায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ পাচ্ছিলেন না। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফর্মার এনে আজ প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। বিকেলে চালু করার পর আবারও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সরবরাহ সাময়িক বন্ধ রয়েছে। তবে আশা করছি রাতে চালু করা হবে। আমাদের প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন।’

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ওপর আমরা কড়া নজর রাখছি। জনগণের দুর্ভোগ যাতে দ্রুত লাঘব হয়, সেজন্য বিদ্যুৎ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। তারা কাজ করছে রাতে চালু করবে বলে জানিয়েছেন। ’