খেলাফত মজলিস

সংবিধান সংস্কারে সংসদে পৃথক অধিবেশন আহ্বান করতে হবে

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
সংবিধান সংস্কারে সংসদে পৃথক অধিবেশন আহ্বান করতে হবে
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী বৈঠকে খেলাফত মজলিসের নেতা। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে সংসদে পৃথক অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। দলটির দাবি, অবিলম্বে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের নেতারা এ দাবি জানান।

নেতারা বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর অতিক্রম হতে চললেও এখনও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকারের আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আশঙ্কাজনক হারে খুন, জখম, অপহরণ, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ বেড়েছে জানিয়ে নেতারা বলেন, অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় সব ধরনের অপরাধীই এখন আগের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। প্রকাশ্যে হত্যা বা গুরুতর জখম করতেও তারা দ্বিধা করছে না। এমনকি আসামি গ্রেফতারে গিয়ে পুলিশ সদস্যরাও হামলার শিকার হচ্ছেন। ফলে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

তাদের মতে, সমাজে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির পেছনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শৈথিল্য বা দুর্বল তৎপরতার বিষয়টি সামনে এসেছে। অপরাধ দমনে পুলিশকে আরও দৃঢ় ও পেশাদার ভূমিকা নিতে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, তদারকি বৃদ্ধি, জবাবদিহি নিশ্চিত এবং মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব জোরদারের আহ্বান জানান তারা।

খেলাফত মজলিসের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্যের চেয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি অগ্রাধিকার পেতে হবে। চীনের সঙ্গে প্রস্তাবিত করিডোর দেশের অর্থনীতিতে সুফল দেবে। তবে এর সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমার সরকারকে রাজি করাতে চীনের আন্তরিক উদ্যোগ কামনায় সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

দলটির দাবি, অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা একনেকে অনুমোদন দিয়ে রংপুর অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন পথ উন্মোচন করতে হবে। বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

দলের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এ বি এম সিরাজুল মামুন, অধ্যাপক আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, বায়তুলমাল সম্পাদক আলহাজ আবু সালেহীন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুর রহমান ফিরোজ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু প্রমুখ।