logo

চুরির অভিযোগে পিটুনি, চিকিৎসার টাকার অভাবে বাড়িতে মৃত্যু

চুরির অভিযোগে পিটুনি, চিকিৎসার টাকার অভাবে বাড়িতে মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

ঢাকার ধামরাইয়ে রাইস মিলের মোটরের যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে শঙ্কর মণ্ডল (২৫) নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারধরের সাত দিন পর তার মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ধামরাই পৌরসভার পশ্চিম কায়েতপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে শঙ্করের মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, গত ৮ আগস্ট স্থানীয় ওয়াজেদ হাজীর রাইস মিলে তাকে মারধর করা হয়। নিহত শঙ্কর মণ্ডল ওই এলাকার বদন চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট স্থানীয় ওয়াজেদ হাজির রাইস মিল থেকে মোটরের একটি যন্ত্রাংশ চুরি হয়। চুরির সন্দেহে ওই দিন বিকেলে শঙ্করকে নিজ বাড়ি থেকে মিল মালিক ওয়াজেদ হাজি ডেকে নেন। শঙ্করের সঙ্গে তার বাবা বদন চন্দ্র মণ্ডল ও প্রতিবেশী জিয়াউর রহমানও মিলে যান। তবে তাদের দুজনকে বাইরে বসিয়ে রেখে মিলের ভেতরে শঙ্করকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে চুরির স্বীকারোক্তি না পেয়ে আহত অবস্থায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরে গুরুতর আহত শঙ্করকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পরিবার তাকে ঢাকায় না নিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে নিহতের বাবা বদন চন্দ্র মণ্ডল বলেন, আমার ছেলে চুরির সঙ্গে জড়িত নয়। তাকে অন্যায়ভাবে চোর সন্দেহে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়। অর্থাভাবে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে আজ আমার ছেলেটা মারা গেল।

ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। পরিবারের অভিযোগ, ওয়াজেদ হাজি নামে এক ব্যক্তি রাইস মিলের চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৮ আগস্ট শঙ্করকে মারধর করে। তাকে ধামরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তারা ঢাকায় নিতে পরামর্শ দেয়। তবে আর্থিক কারণে তারা নিতে পারেনি। আজ সকালে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।