হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের বিরোধ, দোল মন্দির ভাঙচুর

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বণিক পাড়ায় চলাচলের রাস্তা ও মন্দিরের সম্পত্তি নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একটি শতবর্ষী দোল মন্দিরের বেদি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে ফুলগাজী থানায় উভয় পক্ষই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
স্থানীয় সূত্রমতে, বণিক পাড়ায় পুরনো ‘দোল মন্দিরে’ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পূজা-অর্চনা করে আসছেন। শনিবার দুপুরে স্থানীয় সজীব বণিক, স্বরূপ বণিক, ঝুমুর বণিক, নুপুর বণিক ও রূপায়ন বণিকসহ কয়েকজন ওই মন্দিরের জায়গা নিজেদের দাবি করে চলাচলের রাস্তা তৈরির উদ্দেশ্যে মন্দিরের পেছনের অংশ ও বেদি ভাঙতে শুরু করেন। এ সময় মন্দিরের দেখভাল কমিটির সদস্য সঞ্জিব বণিক বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হামলা চালানো হলে সঞ্জিব বণিক, অপূর্ব বণিক, রত্না বণিক ও শিল্পী চৌধুরী আহত হন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জিনা বণিক বাদী হয়ে সজীব বণিক ও স্বরূপ বণিকসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ বণিক অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই মন্দিরের জায়গাটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছিল।
অপরপক্ষে অভিযুক্ত সজীব বণিকের দাবি, প্রতিবেশী সুবল বণিক গংরা তাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তায় ইটের তৈরি একটি বেদি দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছিল। এ নিয়ে ২০২৩ সালে ১৪৭ ধারায় আদালতে মামলা করেন তারা। সম্প্রতি আদালত তাদের পক্ষে রায় দিলে তারা রাস্তা থেকে প্রতিবন্ধকতা সরানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু অপর পক্ষ সাড়া না দেওয়ায় শনিবার বিকেলে তারা নিজেরা রাস্তা পরিষ্কার করতে যান। এ সময় সুবল বণিকের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ফেনী জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু অনিল নাথ বলেন, আমি এ বিষয়ে ফুলগাজী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিপ্লব দত্তের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনেছি। এটি আসলে দুই সনাতন ধর্মাবলম্বীর জায়গা-সম্পত্তির বিরোধ থেকে ঘটেছে। দুই পক্ষ তিন বছর আগে জায়গার মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেছিল। শনিবার সজীব বণিক মামলার রায় পেয়েছেন দাবি করে দোল মন্দিরটি ভাঙচুর করেন। এতে বাধা দিতে গেলে সঞ্জিব বণিকসহ চার থেকে পাঁচজন জন আহত হন। সনাতনীদের মাঝে এই বিরোধ আসলে সত্যি দুঃখজনক। আমরা আশা করব দুপক্ষ বসেই এর একটা শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করবেন।
ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হোসেন বলেন, তারা একে অপরের প্রতিবেশী। উভয় পক্ষের মধ্যে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ ও আদালতে মামলা ছিল বলে জেনেছি। কোর্টের রায় পাওয়ার পর এক পক্ষ যাতায়াতের পথে থাকা দোল মন্দিরের বেদি ভাঙচুর করেছে বলে শুনেছি।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাটি মূলত চলাচলের রাস্তা ও মন্দিরের বেদি নিয়ে। এক পক্ষ দাবি করছে এটি মন্দিরের বেদি, অন্য পক্ষ দাবি করছে এটি তাদের চলাচলের রাস্তা যা আদালত রায়ের মাধ্যমে তাদের দিয়েছেন। সেই প্রতিবন্ধকতা সরাতে গিয়েই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
ওসি আরও জানান, শনিবার রাতে উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং পুলিশ এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।





