মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীর কোলে এলো ফুটফুটে কন্যা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চাঁদপুর
মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীর কোলে এলো ফুটফুটে কন্যা
চাঁদপুর সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে নবজাতককে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চাঁদপুর সদর হাসপাতালে এক ভবঘুরে মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী ফুটফুটে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে এই নবজাতকের পিতৃপরিচয় জানা যায়নি, জানা যায়নি ওই তরুণীর নিজের ঠিকানাও। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সুস্থ আছেন।

হাসপাতাল সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী একই কাপড়ে চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিলেন। তার অস্বাভাবিক চলাফেরা দেখে হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকরা কয়েকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার চেষ্টা করলেও তার আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

শাহনাজ বেগম নামে স্থানীয় এক নারী বলেন, তিনি প্রথমে ওই তরুণীকে শহরের ইসলামী ব্যাংকের সামনে অসহায় অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তাকে উদ্ধার করে নিজের মেসে নিয়ে যান। সেখানে তরুণীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ও প্রসববেদনা লক্ষ করে তিনি শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ১১টার দিকে দ্রুত চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে আনার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসক ও নার্সরা দ্রুত তাকে গাইনি বিভাগে স্থানান্তর করেন। সেখানেই তার একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শারমিন আক্তার বলেন, প্রসূতি ও নবজাতক দুজনই বর্তমানে সুস্থ আছেন। তবে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ওই তরুণী তার নিজের নাম-পরিচয় বা সন্তানের বাবার সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারছেন না।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মা ও নবজাতকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও চিকিৎসার জন্য তাদের একটি বিশেষ কেবিনে রেখেছে। হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার কমান্ডার শাহজাহান জানান, তরুণীটির ও বাচ্চার নিরাপত্তার বিষয়টি তারা কড়া নজরদারিতে রেখেছেন।

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, রোগী ও নবজাতক দুজনই বর্তমানে আমাদের পর্যবেক্ষণে আছেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে হাসপাতাল থেকে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। যদি এই নারীর কোনো স্বজন থেকে থাকেন, তবে দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান তিনি।

এদিকে ফুটফুটে এই শিশুটিকে দত্তক নিতে বা লালন-পালন করতে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন। উদ্ধারকারী নারী শাহনাজ বেগমও আশা প্রকাশ করেন, শিশুটিকে যেন এমন একটি স্বাবলম্বী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যারা তাকে সুশিক্ষায় ও ভালোবাসায় বড় করতে পারবে।

এ বিষয়ে হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়কে জানানো হয়েছে। নবজাতকের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবার শিশু কল্যাণ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া ও আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপযুক্ত কোনো পরিবারের কাছে তাকে লালন-পালনের জন্য হস্তান্তর করা হতে পারে।

বিষয় :চাঁদপুর