logo

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির দুই নেতা, কে পাচ্ছেন ধানের শীষ

রহিম শুভ
ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির দুই নেতা, কে পাচ্ছেন ধানের শীষ
মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া বিএনপির দুই নেতা ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ও মির্জা ফয়সল আমিন। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনের উপনির্বাচন ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এ উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন— তা নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। বিশেষ করে জেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে— শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন ধানের শীষ?

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী প্রার্থীরা ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেন। একই দিনে নির্বাচন কমিশন পাঁচ রাজনৈতিক দলের মোট ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। আগামী ৭ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা ৮ অক্টোবর শুরু হলেও প্রার্থীরা ইতোমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রচার চলবে ২৭ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত।

বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থী ও দলের কৌশল

বিএনপির পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন এবং সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ দুজনই দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। জেলা নির্বাচন কার্যালয় তাদের দুজনেরই প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে।

জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশিদের মতে, মির্জা ফয়সল আমিনের অবস্থানই মূল প্রার্থী হিসেবে পরিষ্কার। ওবায়দুল্লাহ মাসুদের প্রার্থিতা কৌশলগত বা ‘ডামি প্রার্থী’ হিসেবে কেন্দ্রের নির্দেশেই জমা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। ৭ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনের পরই বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ নেবে।

জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা পারভীন জানান, মির্জা ফয়সলের পক্ষে তারা ইউনিয়ন পর্যায়ে সভা-সমাবেশ করছেন এবং কেন্দ্রের সমর্থনের বিষয়ে তারা আশাবাদী।

পৌর বিএনপির সভাপতি মাহাবুব হোসেন তুহিন বলেন, ২ জনে আমাদের দলের। দল যাকে সমর্থন করবেন আমরা তার হয়ে কাজ করবো। এর বাইরে যাব না আমরা। তবে রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই মির্জা ফয়সল দল থেকে সমর্থন পাবেন আশা করি। কারণ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পদে রয়েছেন তার ভাই।

তৃণমূলের মতামত ও স্থানীয় ভোটারদের প্রতিক্রিয়া

উপনির্বাচন ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পৌর শহরের গোয়াল পাড়ার বাসিন্দা জিসান হক মনে করেন, প্রার্থীরা দুজনই যোগ্য হলেও দলীয় রাজনীতিতে ‘পরিবারতন্ত্র’ থেকে বেরিয়ে আসার এখনই উপযুক্ত সময়। অন্যদিকে, মুন্সিপাড়া ও আশ্রম পাড়ার বাসিন্দারা জানান, বর্তমান রাষ্ট্রপতির আসন হওয়ায় এখানে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা বেশি। জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন সুপরিচিত মুখ হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ তাকে এগিয়ে রাখছেন।

পৌর শহরের গোয়াল পাড়ার বাসিন্দা জিসান হক বলেন, এই উপ-নির্বাচনে ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির ২ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। তারা ২ জনই ভালো। দল যাকে সমর্থন দেবে তিনি হবেন এমপি। তবে পরিবার তন্ত্র থেকে বের হয়ে আসা উচিত। তাহলে দলের প্রতি সবার আস্থা থাকবে। আর বাকি দলগুলো সুযোগ নিতে পারবে না।

মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা আজগড় আলী বলেন, এবার যদি বিএনপি একটু ভুল করে তাহলে জামায়াত এ আসনে টিকে যেতে পারে। তবে যেহেতু রাষ্ট্রপতির আসন ঠাকুরগাঁও-১ সেক্ষেত্রে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা এ আসনে বেশি। যে ২ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছে তারা ২ জনই ভালো। তবে মির্জা ফয়সলকে দল সমর্থন দেবে এটা বুঝতে পারছি।

পৌর শহরের আশ্রমপাড়ার বাসিন্দা পায়েল দাস বলেন, ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়ে গেছে। তবে বিএনপির ২ প্রার্থীর মধ্যে মির্জা ফয়সল আসছিলেন ভোট এবং দোয়া চাইতে। আমরা মির্জা ফয়সলকে চিনি, বাকি আরেকজনকে তেমন চিনি না। এ আসনে ফয়সল সমর্থন পেলে তিনি জিতবেন।

প্রার্থীদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান

জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশে আমরা দুজনই দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। প্রতীক বরাদ্দের সময় দলের মহাসচিবের পাঠানো চিঠির মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। আমার রাজনীতিতে কোনো দুর্নীতির দাগ নেই। আশা করি দল পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব বিবেচনা করবে এবং পরিবারতন্ত্রের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে মির্জা ফয়সল আমিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমি দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে কাজ করে যাচ্ছি। দল থেকে আমাকেই চূড়ান্ত প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে আমি আশাবাদী। আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে জেলার অনেক উন্নয়ন হবে, কর্মসংস্থান ব্যবস্থা হবে, রাস্তাঘাটের কাজ হবে। জেলা একটি উন্নত মডেল জেলা হিসাবে পরিচিতি পাবে।

একই সঙ্গে তিনি প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের রাজনৈতিক প্রচারের ধরণ নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, বাকি চার দলের প্রার্থীরা বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করছে। তারা জানেন না, মানুষ এসব ভণ্ড কথা আর বিশ্বাস করবে না। আমরা সুষ্ঠু এবং সুন্দর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আশা করছি।