Advertisement

নওগাঁয় চিনিগুড়ার দাম ২০০ ছাড়াল, সিন্ডিকেটের থাবায় দিশেহারা ক্রেতা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নওগাঁ
নওগাঁয় চিনিগুড়ার দাম ২০০ ছাড়াল, সিন্ডিকেটের থাবায় দিশেহারা ক্রেতা
নওগাঁয় চিনিগুড়া চাল কিনতে ক্রেতা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চালের ঐতিহ্যবাহী শহর নওগাঁয় সুগন্ধি চিনিগুড়া চালের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে খোলা বাজারের চিনিগুড়া চাল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ পৌর খুচরা ও পাইকারি চাল বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানেই চিনিগুড়া চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। আর মাসের হিসাবে কেজিতে বেড়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত চাল মিলছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়।

বাজারের এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির পেছনে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজার দখল ও অবৈধ মজুতকে দায়ী করছেন স্থানীয় খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

শুধু সুগন্ধি চালই নয়, প্রভাব পড়েছে সাধারণ চালের বাজারেও। বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে কাটারি ও জিরাশাইলের মতো চিকন চালের দাম। বাজারে বর্তমানে চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮২ টাকা কেজিতে।

পৌর চাল বাজারে চিনিগুড়া চাল কিনতে আসা ক্রেতা রুমা আখতার জানান, বাচ্চাদের জন্য বা বিশেষ দিনের বিরিয়ানি-পোলাও রান্নায় ব্যবহার করে থাকেন চিনিগুড়া চাল। দাম বৃদ্ধির কারণে আগে যেখানে ২/৩ কেজি চাল কিনতেন সেখানে এখন ১ কেজি চাল কিনে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

ওই বাজারেরই আরেক ক্রেতা দুলু জানান, গত মাসেও যে চাল ১৪৫-১৫০ টাকা কেজিতে কিনেছেন আজকের বাজারে সেই চাল ১৮০-২০০ টাকা করে কেজি। মাসের ব্যবধানে কেজিতে ৪০-৪৫ টাকা বৃদ্ধি অযৌক্তিক। এর দ্রুত সমাধানের দাবিও জানান তিনি।

পৌর খুচরা ও পাইকারি চাল ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান জানান, শুধু সুগন্ধি চালই নয়, বস্তাপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে কাটারি ও জিরাশাইলের মতো চিকন চালের দামও। বর্তমানে এসব চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮২ টাকায়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, ৫০ কেজির চিনিগুড়া চালের বস্তায় দাম বেড়েছে প্রায় ২ হাজার টাকা।

অপর এক চাল ব্যবসায়ী সুবল চন্দ্র এশিয়া পোস্টকে জানান, করপোরেট কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত দামে প্যাকেটজাত চাল বাজারজাত করায় খোলা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে বাজার মনিটরিং বৃদ্ধি করারও পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে ফারিহা ও শেখ রাইস মিল মালিক শেখ ফরিদ উদ্দিন এশিয়া পোস্টকে জানান, বর্তমানে চালের ব্যবসা চলে গেছে করপোরেট কোম্পানির হাতে। এর ফলে হাস্কিং এবং অটো মিল মালিকরা এখন প্রায় বিলীনের পথে। নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা করা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের পদক্ষেপ নিতে হবে। অসৎ ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুতে সরকারি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। আর বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অবিলম্বে সরকারি পর্যায়ে বাজার মনিটরিং বা তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করেন, বাজার থেকে অসাধু সিন্ডিকেট ভাঙতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মিল মালিকদের টিকিয়ে রাখতে এবং সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে চালের বাজারে কঠোর নিয়মনীতি প্রয়োগ করা এখন সময়ের দাবি।

বিষয় :নওগাঁ