logo

শ্রীমঙ্গলে ৬ কোটির কাজ ২০ শতাংশ করে ঠিকাদার উধাও

শ্রীমঙ্গলে ৬ কোটির কাজ ২০ শতাংশ করে ঠিকাদার উধাও
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের রাধানগর-মোহাজেরাবাদ সড়কের বেহাল দশা। কাজ শেষ না করেই উধাও ঠিকাদার। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের রাধানগর-মোহাজেরাবাদ প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের পৌনে ৬ কোটি টাকার প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও মাত্র ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে কাজ বন্ধ রেখে গা ঢাকা দিয়েছেন ঠিকাদার। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক, চা-বাগান মালিক ও ফল চাষিরা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় শ্রীমঙ্গলের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারের কাজ পায় বরিশালের মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ। এর প্রোপ্রাইটর হিসেবে আছেন মেহেদী হাসান চৌধুরী।

চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে গত ১২ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী সঞ্জয় কুমার পণ্ডিত সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান, প্রকল্প এলাকাটি পুরোপুরি অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। সাইটে কাজ চালানোর মতো কোনো শ্রমিক বা প্রতিনিধি ছিলেন না। টানা ২৮ দিনের বেশি কাজ বন্ধ রাখাকে চুক্তির মারাত্মক লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে এলজিইডি।

এ ঘটনায় কাজ ফেলে উধাও হওয়ার অভিযোগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুর রাকিব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে শোকজ নোটিশ পাঠান। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, চিঠি পাওয়ার পর গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার লিখিত ‘ওয়ার্ক প্ল্যান’ জমা দিতে হবে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে ব্যাংকে রাখা ২৯ লাখ ২৭ হাজার টাকার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিল এবং মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজকে কালোতালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করার সুপারিশ করা হবে।

সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী, শামসুদ্দিন ও জাহাঙ্গীর হোসেনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হলে তারা সড়ক অবরোধ ও আন্দোলনে নামবেন।

অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মেহেদী হাসান চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ভাই পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি জানান, প্রকল্পটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনি আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে সাব-কন্ট্রাক্টে দেওয়া হয়েছিল। তবে এরপর থেকেই উভয় পক্ষের ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুর রাকিব এশিয়া পোস্টকে বলেন, ৬ কিলোমিটারের সড়ক নির্মাণের মাত্র ২০ শতাংশ কাজের অগ্রগতি পাওয়া গেছে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে চুক্তি বাতিল ও ব্ল্যাকলিস্টের চূড়ান্ত সুপারিশ পাঠানো হবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, জনভোগান্তি নিয়ে কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। এলজিইডির সঙ্গে কথা হয়েছে, দ্রুত বিকল্প উপায়ে বাকি কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফারুক আহমদ জানান, ঠিকাদারের এমন গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না। জবাব সন্তোষজনক না হলে দ্রুতই নতুন দরপত্রের মাধ্যমে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।