ঋণের চাপ এড়াতে অপহরণের নাটক

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পাওনাদারদের ঋণের চাপ থেকে বাঁচতে নিজের অপহরণের নাটক সাজান মো. রাশেদুল আলম। তাকে উদ্ধারের সময় ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই সহযোগীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দক্ষিণ রাজানগর বাখরুঘাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা রাশেদুল আলমকে উদ্ধার করে।
এ সময় তাকে সহযোগিতার অভিযোগে ইমরান হোসেন (৩৫) ও ইব্রাহিম প্রকাশ বাপ্পি নামের দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে রাশেদুল আলম নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তার স্ত্রী রীনা আক্তার হাটহাজারী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দুই দিন পর তিনি থানায় এসে একটি ভিডিও দেখান।
ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র (রামদা) গলায় ধরে রাশেদুল আলমকে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
হাটহাজারী থানা-পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হাটহাজারী, রাউজানসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। রাঙ্গুনিয়া থানাধীন দক্ষিণ রাজানগর বাখরুঘাটা এলাকায় রাশেদুলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়।
উদ্ধারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদুল আলম স্বীকার করেন, পাওনাদারদের চাপ থেকে বাঁচতে তিনি আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীদের সহায়তায় অস্ত্র দেখিয়ে অপহরণের ভিডিও তৈরি করে মুক্তিপণ দাবির ভান করেছিলেন, যাতে ঘটনাটি বাস্তব মনে হয়।
এই ঘটনার পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পুলিশ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা পুলিশকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের সাজানো ঘটনা ও মিথ্যা তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জুনায়েত কাউছার জানান, ঋণের চাপ এড়াতে অপহরণের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন রাশেদুল। তার সঙ্গে থাকা দুই সহযোগীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘনায় আইনি ব্যবস্থা প্রকিয়াধীন।





