বাল্যবিয়ের শিকার নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ‘সুতোর কাব্য’

এশিয়া পোস্ট নিউজ, হাবিপ্রবি
বাল্যবিয়ের শিকার নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ‘সুতোর কাব্য’
বাল্যবিবাহের শিকার নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ ‘সুতোর কাব্য’। ছবি: এশিয়া পোস্ট

‘একটি সুঁই, একটি সুতো আর নতুন করে বাঁচার গল্প’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাল্যবিয়ের শিকার ও ঝরে পড়া নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে ব্যতিক্রমী এক সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) একদল শিক্ষার্থী। তাদের এই উদ্যোগের নাম ‘সুতোর কাব্য’।

উদ্যোক্তারা জানান, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম থাকলেও যারা ইতিমধ্যে বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে সংসারজীবনে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসন ও আত্মনির্ভরশীলতা নিয়ে কাজের উদ্যোগ তুলনামূলকভাবে কম। সেই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যেই ‘সুতোর কাব্য’ যাত্রা শুরু করেছে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের হাতের তৈরি নান্দনিক হস্তশিল্পের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনে সমাজে নিজস্ব পরিচয় প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

‘সুতোর কাব্য’-এর কো-ফাউন্ডার হিসেবে কাজ করছেন হাবিপ্রবির পাঁচ শিক্ষার্থী— মো. ফয়সাল আলী, আরফিন জাহান স্বর্ণা, মিসকে জান্নাত, রিমু সোলায়মান ও রিমন চৌধুরী।

উদ্যোগের লক্ষ্য সম্পর্কে কো-ফাউন্ডাররা বলেন, আত্মনির্ভরতা শুধু অর্থ উপার্জনের বিষয় নয়, বরং নিজের ইচ্ছাগুলো নিজের সামর্থ্যে পূরণ করতে পারা এবং হারিয়ে যাওয়া আত্মপরিচয় ফিরে পাওয়ার নামই আত্মনির্ভরতা। আমরা চাই, অন্তত কিছু নারীর জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হোক।

নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিচ্ছে ‘সুতোর কাব্য’। বিক্রীত প্রতিটি পণ্য থেকে দুই টাকা বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। এ ছাড়া ৩০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের পণ্য কিনলে ক্রেতাকে উপহার হিসেবে একটি গাছের চারা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ভবিষ্যতে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, নারীর স্বাস্থ্য ও সুস্থতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক সেমিনার ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মতে, তরুণদের এমন মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উদ্যোক্তারাও আশা করছেন, সবার সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ‘সুতোর কাব্য’ বাল্যবিয়ের শিকার অসংখ্য নারীর জীবনে নতুন আশার আলো হয়ে উঠবে।