logo

নিয়োগ আটকে যাওয়া আচার্যকে নিয়ে রাশেদ খাঁনের পোস্ট

নিয়োগ আটকে যাওয়া আচার্যকে নিয়ে রাশেদ খাঁনের পোস্ট
নিয়োগ আটকে যাওয়া মিশন আচার্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। কোলাজ ছবি

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও স্থায়ী ঠিকানা-সংক্রান্ত জটিলতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ আটকে গেছে ঝিনাইদহের মিশন আচার্যের। দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহ শহরে বসবাস করলেও নিয়োগের চূড়ান্ত যাচাইয়ে ঠিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মিশনের নিয়োগ দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, ‘আমি একটু আগে আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি দ্রুতই সমাধান হবে এবং সে শিগগিরই নিয়োগ পাবে।’

রাশেদ খাঁন আরও লিখেছেন, ‘চাকরিপ্রত্যাশী ছোট ভাইটি আমার এলাকার হওয়ায় ঝিনাইদহ থেকে অনেকে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তাদেরকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।’

এদিকে ঝিনাইদহ পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন মিশন আচার্য ও তার পরিবার। পরিবারের দাবি, প্রায় ৪৫ বছর ধরে তারা এই এলাকায় বসবাস করছেন। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্রেও এই ঠিকানা রয়েছে।

সংসারের অভাবের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যান মিশন। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন তিনি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেন।

এবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক—দুই ধাপেই উত্তীর্ণ হন মিশন। নিয়োগের চূড়ান্ত পর্যায়ে ভেরিফিকেশনের সময় স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। ফলে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া আটকে যায়।

মিশনের বড় ভাই শৈলেন আচার্য বলেন, ‘আমার মা মানুষের বাড়িতে কাজ করে আমাদের দুই ভাইকে মানুষ করেছেন। মিশন টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছে। চাকরির পরীক্ষায় পাস করার পরও যদি ঠিকানার কারণে নিয়োগ আটকে যায়, তাহলে আমাদের জন্য এটা খুবই কষ্টের। আমরা চাই, আমার ছোট ভাই যেন চাকরিটা পায়।’

মিশনের মা ময়না আচার্য বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে ছেলেদের মানুষ করেছি। মিশনও অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। চাকরি পেয়েও যদি কাগজপত্রের সমস্যায় চাকরি না হয়, তাহলে মায়ের জন্য এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে? আমি চাই, ছেলের চাকরিটা যেন হয়।’

মিশন আচার্য বলেন, ‘আমি এই ঠিকানায়, এই ভাড়া বাড়িতেই জন্মের পর বড় হয়েছি। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। আবেদন ফরমে বর্তমান ও স্থায়ী—দুই ঠিকানাই কলাবাগানের দেওয়া আছে। এই ঠিকানাতেই দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছি এবং সব চিঠিপত্রও পেয়েছি। তারপরও ঠিকানা নিয়ে কেন জটিলতা হলো, সেটাই বুঝতে পারছি না।’

বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন মিশন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার লিখিত আবেদন পাওয়ার পর জমিজমা ও ঠিকানা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।