ডিবি হেফাজতে মারা যাওয়া প্রান্তর দাফন সম্পন্ন, স্থানীয়দের সড়ক অবরোধ

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী ইশতিয়াক মির্জা প্রান্তের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) বেলা ২টায় মধুখালী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পশ্চিম গোন্দারদিয়ায় পারিবারিক কবরস্থান তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে প্রান্তর মৃত্যুর ঘটনায় বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌর সদরের গোন্দারদিয়া গ্রামে প্রান্তর লাশ পৌঁছানোর পর উত্তেজিত জনতা মধুখালী পেঁয়াজ বাজার এলাকায় প্রান্তর বাড়ির সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে উভয় পাশে কয়েকশ যানবাহন আটকে পরে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ চলাকালীন ডিবি হেফাজতে প্রান্তর মৃত্যুর বিচার দাবি করা হয়। পরে নিহতের চাচা মির্জা ইমরুল কায়েশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
মহাসড়ক অবরোধ শেষে বেলা ২টায় মধুখালী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে প্রান্তর জানাজা হয়। জানাজায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা, আত্মীয়-স্বজনসহ স্থানীয়রা অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন প্রান্তর ১২ বছর বয়সী ছোট ভাই মির্জা আব্দুস সামাদ। পরে পশ্চিম গোন্দারদিয়ায় পারিবারিক কবরস্থান প্রান্তকে দাফন করা হয়।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন মধুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ সতেজ, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আলিম মানিক এবং মধুখালী পৌর বিএনপির সভাপতি মো. হায়দার আলী মোল্লা। এ সময় পরিবারের পক্ষে নিহতের চাচাতো বড় ভাই মির্জা শাহরিয়ার লোটাস বক্তব্য দেন।
এদিকে প্রান্তর মৃত্যুর ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম গতকাল রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলামকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল আজম ও ডিএসবির (ওসি) মোশাররফ হোসেন। এই কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম।
গত শনিবার (২০ জুন) বিকেলে মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তকে আটক করে ডিবি। এ সময় তাকে মায়ের সামনেই পেটানো হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। পরদিন রোববার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিবি হেফাজতে প্রান্তর মৃত্যু হয়। পরে প্রান্ত ছাত্রলীগের ‘একনিষ্ঠ কর্মী’ উল্লেখ করে শোকবার্তা দেয় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির ফরিদপুর জেলা শাখা।







