স্বাধীনতার আগের জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে চলছে ইউপি কার্যক্রম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কার্যক্রম এখনও পরিচালিত হচ্ছে স্বাধীনতার আগের একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে। প্রায় ৭৫ বছরের পুরোনো ভবনটির নাজুক অবস্থা এবং অবকাঠামোগত সংকটের কারণে প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, সেবাগ্রহীতা ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ ঘরটির টিনের চালে মরিচা পড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র সৃষ্টি হওয়ায় বৃষ্টির সময় পানি চুঁইয়ে অফিস কক্ষের ভেতরে পড়ে। এতে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, কম্পিউটার ও অন্যান্য সরকারি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ভবনের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গার অভাব থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
প্রতিদিন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিকত্ব ও ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা নিতে শতাধিক মানুষ এই ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। কিন্তু ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং স্থানসংকটের কারণে স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই কক্ষে চেয়ারম্যান, সদস্য, সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক কাজ করতে হচ্ছে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় পরিচালিত হচ্ছে। তবে সেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা না থাকায় সেবাদানে নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, ঘরটির বয়স অনেক বেশি। এটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সেবা নিতে আসা সাকিনা আক্তার বলেন, অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদে আধুনিক ভবন রয়েছে। কিন্তু এখানে বসারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তির মধ্যে সেবা নিতে হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যসহকারী আমানুল্লাহ বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের জায়গায় সাময়িকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নিজস্ব ভবনের ব্যবস্থা হলে তারা সেখানে চলে যাবে বলে আশা করছি।
ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বলেন, স্বাধীনতার আগের এই ঘরে কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। টিনের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে, জায়গার সংকট রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। ইউনিয়নবাসীর স্বার্থে দ্রুত একটি নতুন ও আধুনিক ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট (মাটি পরীক্ষা) সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।
উল্লেখ্য, উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ ঘরটি ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার আগে নির্মিত এই ঘর দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সময়ের ব্যবধানে ভবনটি এখন সম্পূর্ণ জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।




