ধান ছেড়ে ঘাস চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ফেনী
ধান ছেড়ে ঘাস চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা
ঘাস চাষ করছেন ফেনীর কৃষকরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিকের বাড়তি মজুরি ও জলাবদ্ধতার কারণে ফেনীতে ধান চাষ দিন দিন অলাভজনক হয়ে উঠছে। ফলে বিকল্প হিসেবে আবাদি জমিতে উন্নত জাতের ঘাস চাষ ও সাইলেজ প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন জেলার কৃষকরা। অনেকে নিজস্ব ডেইরি খামারের পশুখাদ্যের জোগান দিতে এসব ঘাস ব্যবহার করছেন, আবার অনেকে খামারিদের কাছে টাকার বিনিময়ে জমি ইজারা দিচ্ছেন। কৃষকরা বলছেন, ঘাস চাষ করলে বছরে ধানের চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বেশি লাভ পাওয়া যায়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ফেনীর ছয়টি উপজেলাতেই ধানের চেয়ে ঘাস চাষে আগ্রহ বাড়ছে। এক বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ বা ব্রি-২৯ জাতের ধান চাষ করলে বছরে সর্বোচ্চ ২০ মণ ফলন পাওয়া যায়। কিন্তু চারা, সার, সেচ ও শ্রমিকের চড়া মূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ তুলতে গিয়ে কৃষকদের হিমশিম খেতে হয়। অন্যদিকে, এক বিঘা জমিতে মাত্র একবার ঘাসের চারা রোপণ করলে বছরে পাঁচ থেকে ছয় বার ঘাস কাটা ও বিক্রি করা যায়। প্রথমবার কাটার পর কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই পুনরায় ফলন আসে।

কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে ঘাস চাষে চারা বাবদ দুই হাজার টাকা, শ্রমিক মজুরি দুই হাজার টাকা এবং ২০ কেজি ইউরিয়া সার বাবদ মাত্র ৮০০ টাকা খরচ হয়। গো-খাদ্যের বাজারে যখন চরম ঊর্ধ্বগতি, তখন এই স্বল্প খরচের ঘাস খামারিদের বড় অর্থনৈতিক সাশ্রয় দিচ্ছে। ফলে মূল ধানক্ষেতের পাশাপাশি পতিত জমি, সড়কের পাশ এবং ডোবা-নালার পাড়েও এখন ঘাস চাষ হচ্ছে।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

দাগনভূঞা উপজেলার মেসার্স এইচ. এ হাশেম এগ্রো ফার্মের মালিক আমজাদ হোসেন জানান, আমরা ধানের জমিতে এখন জার্মান ঘাস চাষ করছি। এতে করে ধানের চেয়ে ঘাসে আমাদের লাভ অনেক বেশি হচ্ছে।

ফেনী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এশিয়া পোস্টকে জানান, ফেনী জেলায় উন্নতজাতের ঘাস চাষের ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে। এ জেলায় নেপিয়ার ঘাস চাষ করা হয়েছে ৪০ দশমিক ২৬ একর জমিতে। এতে প্রায় ৭০৪ টন ঘাষ পাওয়া যাবে। পাকচং ঘাষ চাষ করা হয়েছে ৩৪ দশমিক ১৬ একর জমিতে, এর মাধ্যমে ৮ হাজার ৪৬৩ টন ঘাষ পাওয়া যাবে। এ ছাড়া জার্মান ঘাষ চাষ করা হয়েছে ৭৫ দশমিক ৫২ একর জমিতে, এতে ছয় হাজার ৩৩৯ টন ঘাষ পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পুষ্টি চাহিদা মেটাতে প্রাণিজ আমিষের বিকল্প নেই। একদিকে চারণভূমি কমছে, অন্যদিকে উন্নত জাতের গরু পালনে কাঁচা ঘাস অপরিহার্য। উৎপাদন খরচ কমাতে খামারিরা এখন ঘাস চাষে ঝুঁকছেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে আমরা উন্নত জাতের ঘাসের কাটিং (চারা) বিতরণসহ চাষ সম্প্রসারণে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছি। এতে গবাদি পশুর খাবারের খরচ কমে খামারিরা লাভবান হচ্ছেন।

বিষয় :ফেনী