বাবার লাশ দাফনে বাধা সন্তানদের, কবর খোঁড়া হলো দুইবার

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বরিশাল
বাবার লাশ দাফনে বাধা সন্তানদের, কবর খোঁড়া হলো দুইবার
বাড়ির উঠানে কবর। ছবি: এশিয়া পোস্ট

‎ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় সম্পত্তি-সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছেন সন্তানরা। বাধার মুখে দুইবার কবর খোঁড়া হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় সংক্ষিপ্ত জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।

Advertisement

‎ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২০ জুন) উপজেলার শশীভূষণ থানাধীন রসুলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জলিল পণ্ডিতের বাড়িতে।

এর আগে, শুক্রবার রাতে জলিল পণ্ডিত মারা গেলে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিবারের কয়েকজন সদস্য আপত্তি জানান।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জলিল পণ্ডিত চারটি বিয়ে করেছিলেন। বর্তমানে তার দুই স্ত্রী ও সাত সন্তান রয়েছেন। ‎মৃত্যুর আগে জলিল পণ্ডিত তার সম্পত্তির একটি বড় অংশ ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তার স্মৃতির নামে দলিল করে দেন। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই খাদিজা আক্তার স্মৃতিসহ সন্তানদের কয়েকজন মরদেহ দাফনে বাধা দেন।

‎প্রথমে পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া হলেও সেখানে দাফন করতে দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ির উঠানে দ্বিতীয়বার কবর খোঁড়েন। কিন্তু সেখানেও আপত্তি জানানো হয়। মরদেহ বাড়ির উঠানে রেখে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পুলিশের উপস্থিতিতেও কয়েক দফা উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে উভয় পক্ষকে শান্ত করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিরোধের অবসান ঘটে। বাড়ির উঠানে সংক্ষিপ্ত জানাজা শেষে জলিল পণ্ডিতের মরদেহ দাফন করা হয়।

শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ আহাম্মদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।