Advertisement

বিএনপির এমপির সুবিধার্থে শতবর্ষী স্কুল মাঠ কেটে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুমিল্লা
বিএনপির এমপির সুবিধার্থে শতবর্ষী স্কুল মাঠ কেটে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ
ছবি : এশিয়া পোস্ট

কুমিল্লার বুড়িচং পৌরসভার শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘বুড়িচং আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়’-এর খেলার মাঠে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কুমিল্লা-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য হাজি জসিম উদ্দিনের নিজ বাড়িতে যাতায়াত সহজ করতেই বিদ্যালয় মাঠের পশ্চিম পাশ দখল করে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এমনকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন ছাড়াই এই কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই মাঠটি শতবর্ষী এবং শিক্ষার্থীদের একমাত্র ক্রীড়াপ্রাঙ্গণ। পাশাপাশি এটি পুরো বুড়িচং পৌরবাসীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। মাঠ সংস্কার ও ‘ওয়াকওয়ে’ নির্মাণের দোহাই দিয়ে মাঠের একটি অংশকে রাস্তা হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করায় প্রাঙ্গণটির আয়তন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠে ওয়াকওয়ে ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অনুমতি চেয়ে গত ১১ জুন শিক্ষা সচিব বরাবর আবেদন করেন প্রধান শিক্ষক। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো লিখিত অনুমতি বা জবাব আসেনি। এর আগেই মাঠের পশ্চিম পাশে বিতর্কিত রাস্তাটির কাজ সম্পন্ন করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের পশ্চিম পাশেই সংসদ সদস্য হাজি জসিম উদ্দিনের সীমানাঘেরা জমি অবস্থিত। এমপির বাড়িতে যানবাহন যাতায়াত সহজ করতেই মূলত মাঠের ওপর দিয়ে প্রায় ৮ থেকে ৯ ফুট প্রশস্ত এই রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে ওয়াকওয়ে নির্মাণের কারণে মাঠের চারপাশ থেকে প্রায় ১৫ ফুট জায়গা কমে গেছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী মাঠটি আগের তুলনায় বেশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, এই মাঠ থেকে একাধিক জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ উঠে এসেছেন। এভাবে মাঠ ছোট করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খেলাধুলার বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছর মাঠের পশ্চিম পাশে একটি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বর্তমানে কেবল দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে প্রাচীর নির্মাণ চলছে। এতে বিদ্যালয়সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়কটি আরও সরু হয়ে পড়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, দুটি ছোট গাড়িও পাশাপাশি পার হতে পারছে না। বুড়িচং বাজারে যানজট হলে এই সড়কটিই বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সড়ক সংকুচিত হওয়ায় জরুরি সেবা ও সাধারণ যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কীভাবে এ কাজ সম্পন্ন হলো, তার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন মহল।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমরা বিস্তারিত কিছু জানি না। এটি সরকারি জায়গা। গত মাসে বিধি অনুযায়ী শিক্ষা সচিব বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি, তবে এখনও জবাব পাইনি। পৌরসভার উদ্যোগে কাজ হচ্ছে। বাউন্ডারি বা ওয়াকওয়ে ঠিক কোথায় হচ্ছে, তার স্পষ্ট ধারণা আমাদের নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন জানান, এলাকার সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা ও বৈঠকের মাধ্যমেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজি জসিম উদ্দিন বলেন, মাঠের কোনো ক্ষতি করা হয়নি। কেবল লোকজনের সকালে-বিকেলে হাঁটার সুবিধার্থে চারপাশে একটি ওয়াকওয়ে তৈরি করা হয়েছে। আমি সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করি, কারও সুবিধার জন্য মাঠ ছোট করার প্রশ্নই আসে না।

বিষয় :কুমিল্লা