রমেক শিক্ষার্থী গ্রেপ্তারের ঘটনায় মহাসড়ক অবরোধ করলেন সহপাঠীরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রংপুর
রমেক শিক্ষার্থী গ্রেপ্তারের ঘটনায় মহাসড়ক অবরোধ করলেন সহপাঠীরা
রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন রংপুর মেডিকেল কলেজের (রমেক) শিক্ষার্থীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় রংপুর মেডিকেল কলেজের (রমেক) এক শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সড়ক অবরোধ করেছেন তার সহপাঠীরা।

Advertisement

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত আটটার দিকে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। রাত সাড়ে নয়টায় তারা সড়ক থেকে সরে যান।

রংপুর নগরীর নর্থভিউ হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে নুজসাতের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে নগরীর পায়রা চত্বর এলাকার নর্থ ভিউ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ছাদ থেকে পড়ে নুজসাতের মৃত্যু হয়।

তিনি নগরীর খলিফাপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে এবং ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

শাহরিয়ার আহমেদ সাকিন নগরীর ধাপ চিকলীভাটা এলাকার বাসিন্দা। তিনি এক সময় নুজসাতকে প্রাইভেট পড়াতেন।

তদন্তে দুজনের মধ্যে প্রায় ৯ থেকে ১০ মাসের প্রেমের সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নুজসাতের মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তার বাবা নজরুল ইসলাম।

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে মেয়ের ব্যবহৃত ফোনটি পান, যেখানে মেসেজসহ বিভিন্ন তথ্য ডিলিট করা অবস্থায় ছিল। বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, মেয়ের প্রাইভেট শিক্ষক শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনের সঙ্গে তার মেয়ের একসঙ্গে তোলা ছবি এবং কথোপকথনের মেসেজ ফোনে ছিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাকিনের মানসিক নির্যাতনের কারণে তার মেয়ের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, সাকিনের বিরুদ্ধে আমলযোগ্য অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছি। সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে প্রথমে তাকে হেফাজতে নেই। পরে নিহতের বাবার করা মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার সময় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হোটেলের আশপাশে কোথাও ছিলেন না, এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

সনাতন চক্রবর্তী বলেন, তাদের কথোপকথনের কল রেকর্ড সংগ্রহ করে যাচাই করা হয়েছে। নিহতের বন্ধুদের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। তদন্তে প্রায় ৯ থেকে ১০ মাসের সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সময়ে তাদের দেখা-সাক্ষাৎ ও যোগাযোগে প্রমাণ মিলেছে।

তিনি আরও বলেন, লাফ দেওয়ার আগে নুজসাত তার ফোন ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’ করেছিলেন। ফলে ফোনে কোনো ডাটা পাওয়া যায়নি। তবে সিমের কল ডিটেইলস বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর পেছনের মূল কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে সোমবার বিকেল ৪টা ৫৪ মিনিটে নুজসাতকে হোটেলের ছাদে উঠতে দেখা যায়। সেখানে কিছু সময় অবস্থান করে তিনি ফোন ব্যবহার করেন। পরে বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটের দিকে মোবাইল ফোন রেখে ছাদের রেলিংয়ের ওপর বসার একপর্যায়ে নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়।

তবে থানা থেকে আদালতে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের কাছে সাকিন অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, নুজসাত আমার ছাত্রী ছিল। চারজনের একটি ব্যাচে সে আমার কাছে পড়ত। আমি বুঝতে পারি সে আমাকে পছন্দ করে। তখন আমি ওই ব্যাচ থেকে সরে আসি। তার মায়ের অনুরোধে তাকে অন্য একটি ব্যাচে নিই। কিন্তু সেখানেও সে আমাকে পছন্দ করত এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করত। পরে আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিই।

বিষয় :রংপুর