বিয়ের আগের দিন কনে ও মা-বাবার আত্মহত্যা

মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা পর বসার কথা ছিল বিয়ের আসরে। চারদিকে যখন আনন্দ-উচ্ছ্বাস চলছিল ঠিক তখন এক নিমিষে স্তব্ধ হয়ে গেল সবকিছু। বিয়ের পিঁড়িতে বসার ঠিক আগের দিন নিজের বাড়িতে বিষ পান করে আত্মহত্যা করলেন ২১ বছর বয়সি কনে এবং তার মা-বাবা। ভারতের কর্ণাটকের মহীশুর জেলার টি নরসিপুরা তালুকের হালেকিম্পায়ানাহুন্ডি গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে।
মর্মান্তিক এই ঘটনায় আত্মহত্মা করা তিনজনকে শিবান্না (৫০), তার স্ত্রী নাগারথনা (৪৫) এবং তাদের মেয়ে রক্ষিতা (২১) হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। পুলিশের তথ্যমতে, নিজেদের বাসভবনে তারা বিষ পান করেছেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনার পরদিন ধুমধাম করে রক্ষিতার বিয়ের সব পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে এই বিয়ে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করতে গিয়ে পরিবারটি বিভিন্নভাবে চাপের মুখে ছিল। চারদিকের আলো ঝলমলে উৎসবের আড়ালে এক তীব্র যন্ত্রণা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল তাদের।
অনুসন্ধানে স্থানীয় পুলিশ জানতে পেরেছে, এই পরিবারটির জীবন বিষিয়ে তুলেছিল উল্লাস গৌড়া নামের একই গ্রামের এক ব্যক্তি। মূলত তার হয়রানির শিকার হয়ে তারা আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেন।
অভিযোগ রয়েছে, উল্লাস দীর্ঘদিন ধরে রক্ষিতাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রক্ষিতার বিয়ে অন্য এক পাত্রের সঙ্গে ঠিক হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। বিয়েটি ভেঙে দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন উল্লাস। সেই উদ্দেশ্যে তিনি রক্ষিতাকে নিয়ে নানা নেতিবাচক ও আপত্তিকর মন্তব্য করতে শুরু করেন। এমনকি বরের মোবাইল ফোনে রক্ষিতার বিভিন্ন মেসেজ এবং ছবি পাঠিয়ে সম্পর্কটি নষ্টের অপচেষ্টা চালান তিনি।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, আত্মহত্যার আগে লিখে যাওয়া সেই নোটে নিজেদের এই করুণ পরিণতির জন্য সরাসরি উল্লাস গৌড়াকে দায়ী করে গেছেন তারা। তবে পুলিশ এখন নোটে থাকা সব তথ্য প্রকাশ করেনি।
এ ঘটনায় টি নরসিপুরা থানার পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোট, মোবাইল ফোনের ডিজিটাল প্রমাণ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক সমস্ত পরিস্থিতি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন।






