চেক প্রজাতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টের মামলা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
চেক প্রজাতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টের মামলা
চেক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেল (ডানে) ও প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিশ (বামে)। ছবি: সংগৃহীত

কোনো রাষ্ট্রে সাধারণত সরকারে থাকা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ অন্যান্যরা। এই তালিকায় থাকেন দেশের জনগণও। অধিকার খর্ব কিংবা অন্যায়ের শিকার হলে এমপি, মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত দায়ের হয়। কিন্তু এবার মধ্য ইউরোপের দেশ চেক প্রজাতন্ত্রে ঘটেছে বিরল ঘটনা।

Advertisement

দেশটির প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন তারই সরকারের প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেল। চেক প্রেসিডেন্ট আগামী মাসের ন্যাটো সম্মেলনে দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার পর সৃষ্ট সাংবিধানিক বিরোধ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, নিজের ক্ষমতার পরিধি নিয়ে সরকারের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তিনি বিষয়টি চেক প্রজাতন্ত্রের সাংবিধানিক আদালতে উত্থাপন করেছেন।

সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদন অনুসারে, চেক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেল সরকারের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক আদালতে মামলা করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিশের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।

কারণ, আগামী জুলাইয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সরকারি প্রতিনিধিদলে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মামলায় মূলত জানতে চাওয়া হয়েছে, ন্যাটো সম্মেলনে প্রেসিডেন্টের অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা কার হাতে রয়েছে।

এক বিবৃতিতে পাভেল অভিযোগ করেন, বাবিশ তাকে শীর্ষ সম্মেলন থেকে বাদ দিয়ে সংবিধান প্রদত্ত প্রেসিডেন্টের ভূমিকা সীমিত করার চেষ্টা করছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, তার পূর্বসূরিরা ন্যাটোর সব আগের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন এবং ২০২৩ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনিও জোটের প্রতিটি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। কয়েক মাস ধরে এ নিয়ে বিতর্ক চলার পর গতকাল সোমবার বাবিশ ঘোষণা দেন যে, এবারের সম্মেলনের ধরন ভিন্ন হওয়ায় প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদলের অংশ হতে পারবেন না।

তবে অনেকের মতে, বিরোধের অন্যতম কারণ হতে পারে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে দুই নেতার মতপার্থক্য। আসন্ন সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বাবিশকে ন্যাটোর ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার নিচে, অর্থাৎ জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশে সামরিক ব্যয় নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে হবে।

সাবেক সেনা জেনারেল পাভেল এ সিদ্ধান্তকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে সমালোচনা করেছেন। তবে বাবিশ প্রেসিডেন্টের মামলা করার অধিকারকে সম্মান করলেও আদালতে মামলা করার বিষয়টি সমর্থন করছেন না।

পাভেল জোর দিয়ে বলেন, এই বিরোধ কোনো বিদেশ সফরে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রশ্ন নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য ও সাংবিধানিক কর্তৃত্বের বিষয়। তিনি যদি নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতার পক্ষে না দাঁড়ান, তাহলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় পদগুলোর ক্ষমতা আরও স্বেচ্ছাচারীভাবে খর্ব করার পথ উন্মুক্ত হয়ে যাবে।