সুন্দরবনে পর্যটনের নামে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস নয়: বন প্রতিমন্ত্রী

সুন্দরবনে পর্যটনের নামে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, পর্যটনের অজুহাতে হরিণ শিকার, বনে আগুন দেওয়া, উচ্চশব্দে গান-বাজনা ও পার্টি করা, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এবং বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলে সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি করা হচ্ছে। এসব অপকর্ম বন্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খুলনার ৪ নম্বর ঘাট এলাকায় ভৈরব নদীতে নোঙর করা ৭৫ কেবিনের বিলাসবহুল লঞ্চ দ্য এক্সপ্লোর-২ এর হলরুমে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। এই বন ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা কোনো সচেতন নাগরিকই চায় না। সুন্দরবন উচ্চশব্দে গান-বাজনা কিংবা পার্টি করার জায়গা নয়; এ ধরনের বিনোদনের জন্য খুলনা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিলাসবহুল হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের সব এলাকা ঘুরে দেখারও প্রয়োজন নেই, কারণ সেখানে বন্যপ্রাণীরা মুক্তভাবে বাস করে। তাদের আতঙ্কিত করা যাবে না। বিদেশি পর্যটকরা বনের একটি অংশ দেখেই সুন্দরবনের সামগ্রিক রূপ সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকেন। তাই তিন-পাঁচ দিনের পরিবর্তে দু-এক দিনের ছোট ট্যুর আয়োজন করা হলে সুন্দরবনের ওপর চাপ কমবে এবং পর্যটকরাও সহজে আকৃষ্ট হবেন।
পর্যটকদের ওঠানামার সুবিধার্থে মোংলাসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ঘাট বা পন্টুন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অর্থ বরাদ্দের আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভায় টোয়াসের সদস্যরা প্রতি লঞ্চে সুন্দরবন ভ্রমণের অনুমোদিত পর্যটক সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ জন করার জোরালো দাবি জানান। তারা বলেন, ৭৫ জন পর্যটকের অনুমোদন দেওয়া হলে ব্যাংক ঋণ, কর্মচারীদের বেতন, জ্বালানি ও ভ্যাট-ট্যাক্সসহ সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় মেটানো সহজ হবে। তা সম্ভব না হলে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অন্তত চার-পাঁচ বছর সময় দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, সুন্দরবন সংরক্ষণ ও পর্যটন পরিচালনায় এখনও ২০১৪ সালের পুরনো নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রায় ২০০ বছর আগে পরিচালিত জরিপে সুন্দরবনের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার উল্লেখ করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন হওয়ায় নতুন করে জরিপ পরিচালনা এবং সুন্দরবন নীতিমালার আধুনিকায়নের দাবি জানান তারা।
টোয়াসের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, পশ্চিম বন বিভাগের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান ও রেজাউল করিম, খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম এবং বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান। এতে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
