logo

ভাতিজি হত্যায় ফুফু গ্রেপ্তার, নিহতের বাবার অভিযোগ জড়িত আরও অনেকে

ভাতিজি হত্যায় ফুফু গ্রেপ্তার, নিহতের বাবার অভিযোগ জড়িত আরও অনেকে
নারগিছ সুলতানা কচিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইনসেটে নিহত শিশু তাইফা সুলতানা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক এলাকায় চার বছর বয়সি শিশু তাইফা সুলতানাকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগে তার আপন ফুফু নারগিছ সুলতানা কচিকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে শিশুটির বাবা ইলিয়াস খান টিপুর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিহত শিশু তাইফা সুলতানার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সুয়ালক এলাকায় ফুফু নারগিছ সুলতানার ঘরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

শিশুটির বাবা ইলিয়াস খান টিপু জানান, বিকেলে তার মেয়ে নিখোঁজ হলে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তিনি দেখতে পান, তার বোন নারগিছ সুলতানা কচি শিশুটিকে তার ঘরের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।

বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের জানালে তারা নারগিছ সুলতানার ঘরে গিয়ে খোঁজ করেন। সেখানে ঘরের ভেতর তাইফা সুলতানার নিথর দেহ দেখতে পান তারা। পরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

শিশুটির বাবা অভিযোগ করে জানান, তার মেয়েকে উদ্ধারের পর পুলিশ নিজেদের মতো করে এজাহার তৈরি করেছে। সেখানে শুধু নারগিছ সুলতানা কচিকে আসামি করা হয়েছে। অথচ তাদের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সেই বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ইলিয়াস খান টিপুর ভাষ্য, তার বোন নারগিছ সুলতানা কচির পাশাপাশি পরিবারের আরও কয়েকজন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন। কিন্তু পুলিশ এজাহারে শুধু একজনের নাম উল্লেখ করেছে। এমনকি তাকে চাপ প্রয়োগ করে এজাহারে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে ঘটনার পর নারগিছ সুলতানা কচিকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ এশিয়া পোস্টকে বলেন, নারগিছ সুলতানা কচি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ওসি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও অন্য কারও সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

শিশুটির বাবার করা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি মাসুদ পারভেজ বলেন, মামলার এজাহারে নারগিছ সুলতানা কচির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে যদি আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি জানান, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিহত শিশু তাইফা সুলতানার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা এবং এর পেছনের পারিবারিক বিরোধের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।