logo

স্থায়ী ঠিকানা না থাকা সেই মিশন আচার্য পেলেন নিয়োগপত্র

স্থায়ী ঠিকানা না থাকা সেই মিশন আচার্য পেলেন নিয়োগপত্র
মিশন আচার্য। ছবি : পারিবারিক সূত্রে পাওয়া

মেধা ও যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ঠিকানা-সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন আটকে ছিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মিশন আচার্যের নিয়োগ। অবশেষে সব জটিলতা পেরিয়ে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন ঝিনাইদহের এই তরুণ। এর মধ্য দিয়ে সরকারি শিক্ষক হওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলো তার।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে মিশন আচার্যের নামে আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র জারি করা হয়।

নিয়োগপত্রে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ কমিটির সুপারিশে মিশন আচার্যকে সহকারী শিক্ষক পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপত্র অনুযায়ী, মিশন আচার্যের রোল নম্বর ৬৫১৫৩২৮১৭। তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান গ্রাম। জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা বেতনক্রমের গ্রেড-১৩-এ তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগপত্রে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উপস্থিত হয়ে তাকে চাকরিতে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে তিনি চাকরিতে যোগদানে সম্মত নন বলে গণ্য হবেন এবং নিয়োগপত্র বাতিল বলে বিবেচিত হবে।

ঠিকানা নিয়ে আটকে ছিল নিয়োগ

এর আগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নিয়োগের সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করেও ঠিকানা-সংক্রান্ত জটিলতায় মিশন আচার্যের নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে যায়। বিষয়টি নজরে আসার পর মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের কাছে চিঠি দেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) সচিব পদমর্যাদার মো. রাশেদ খাঁন।

রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন জানান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে দুদিনের সফর শেষে মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষামন্ত্রী মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন বলেও জানান তিনি। এর একদিন পরই ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে মিশন আচার্যের নামে নিয়োগপত্র জারি করা হয়।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে দেওয়া চিঠিতে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেছিলেন, মিশন আচার্য মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পরীক্ষার সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু ঠিকানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তার নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে যায়। এতে একজন মেধাবী তরুণের সরকারি শিক্ষক হওয়ার সুযোগ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, মিশন আচার্য এলাকায় ভদ্র ও সুনামের অধিকারী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক সংবাদও পাওয়া যায়নি। এসব বিষয় বিবেচনা করে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিধি অনুযায়ী তার নিয়োগপত্র প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান রাশেদ খাঁন।

রোববার মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাশেদ খান নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, মিশন আচার্য নিয়োগপত্র হাতে পেতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

অবশেষে সোমবার আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ায় মিশন আচার্য ও তার পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলো। মেধা ও যোগ্যতায় নিয়োগের সব ধাপ পেরিয়েও ঠিকানা-সংক্রান্ত জটিলতায় যে চাকরির সুযোগ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, নিয়োগপত্র পাওয়ার মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল।