ফরিদপুরে ছিনতাইকারীর হামলায় সাংবাদিক আহত

ফরিদপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছিনতাইকারী চক্রের সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত জখম হয়েছেন সাংবাদিক জাকিব আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের টেপাখোলা মদনখালী স্লুইসগেট এলাকায় পৌরসভার ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ডাম্পিং সেন্টারের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একদল ছিনতাইকারীর গ্যাং লিডার আল আমিনের নেতৃত্বে টিকটকার সাকিব, তার ভাই লিয়নসহ চিহ্নিত ছিনতাইকারীরা এই হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা ধারালো কাঁচি দিয়ে জাকিবের পিঠ, হাত, কাঁধ ও কোমরে কুপিয়ে জখম করে এবং লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত জাকিব আহমেদ স্থানীয় পত্রিকা ‘দৈনিক ফতেহাবাদ’সহ ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিক ও ‘আইটি টিভি’তে কর্মরত আছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে সালথার এক তরুণ তার বাগদত্তাকে নিয়ে স্লুইসগেট এলাকায় ঘুরতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে বেরিবাঁধ সড়কে ডাম্পিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেলে এসে আল আমিন ও তার সহযোগীরা তাদের গতিরোধ করে। তারা তরুণীকে শ্লীলতাহানি করে, পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে এবং তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা ও বিয়ের সোনার আংটি ছিনিয়ে নেয়। পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ওই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক জাকিব। তিনি সেখানে আগের দিনের ছিনতাইয়ের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন এবং অভিযুক্ত আল আমিনের বক্তব্য নেওয়া শুরু করেন।
বক্তব্য নেওয়ার একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করার সময় দুর্বৃত্তরা লাঠি দিয়ে জাকিবের হাতে আঘাত করে। এতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ভেঙে যায়। এরপরই ধারালো কাঁচি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘবদ্ধ এই ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত সর্বস্ব হারাচ্ছেন টেপাখোলা স্লুইসগেট এলাকায় ঘুরতে যাওয়া দর্শনার্থীরা। প্রায় দুই দশক আগে নদীভাঙনের শিকার বেশ কিছু পরিবারকে মানবিক কারণে সেখানে অস্থায়ী বসতি গড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ওই পরিবারের কিশোর-যুবকেরা এখন ভয়ংকর ‘গ্যাং কালচারে’ জড়িয়ে পড়ে অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। বৃহস্পতিবার রাতেও এলাকাটিতে অন্তত তিনটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক জাকিব আহমেদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফরিদপুরের কর্মরত সাংবাদিকেরা। তারা অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে শুক্রবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসাধীন সাংবাদিক জাকিব আহমেদ।
কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) সুকান্ত পাল জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
.png)






