একই প্রশ্নে হবে কলেজ ও মাদ্রাসার পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ ছাড়া মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডে যেসব বিষয়ে পাঠ্যক্রম ও বিষয়বস্তু অভিন্ন, সেসব বিষয়েও একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ডিনস ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা মাদ্রাসা শিক্ষাকে মর্ডানাইজ করার জন্য সেখানে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করছি। আমরা কোনো বৈষম্য চাই না।
তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার ধাপে ধাপে সিলেবাস ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, হিসাববিজ্ঞান, অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানের মতো অভিন্ন বিষয়গুলোতে মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা ধারার শিক্ষার্থীরা একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭-২৮ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে জিডিপির সাড়ে ৩ শতাংশ এবং পরবর্তী অর্থবছরে ৪ শতাংশ, আগামী চার বছরের মধ্যে ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা গত সপ্তাহে বগুড়া ইউনিভার্সিটি বিল পাস করেছি। সেখানে নতুন নতুন বিষয় থাকবে। এই প্রথম ইউরোপ-আমেরিকার মতো একটি ইউনিভার্সিটি হচ্ছে। নোয়াখালীতেও এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা রয়েছে। ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বগুড়ার পর নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিকায়ন করার প্রস্তাব আমরা পাবো বলে আশা করি।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালের একটি মামলার কারণে দেশের ৬৫ হাজার ৫০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছে। এর ফলে বহু সহকারী শিক্ষক পদোন্নতির সুযোগ না পেয়েই অবসরে যাচ্ছেন। আমি সংসদে বলার পর সেটি আদালতের নজরে এসেছে। ২ জুলাই এটি সমাধান হবে। জটিলতা নিরসন হলে পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আরও ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করার লক্ষ্যে সেখানে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে সাজানোর কাজ চলছে।
শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া সহজ করতে এনটিআরসিএর মাধ্যমে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কর্মরত শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থা আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটেড করা হবে বলেও জানান তিনি।
মাদ্রাসা শিক্ষকদের মে ও জুন মাসের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থার ডাটাবেজসংক্রান্ত জটিলতার কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকার দ্রুত এ জটিলতা নিরসনে কাজ করছে।
এর আগে সকালে বর্ণিল আয়োজনে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে কেক কেটে, পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে ও বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের জন্য ৫১ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর হাতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার ও অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪৯ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ এবং তিনটি ক্যাটাগরিতে তিনজনকে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসির উদ্দিন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।







