logo

রাতে বারবার প্রস্রাব করা কি ক্যানসারের লক্ষণ

রাতে বারবার প্রস্রাব করা কি ক্যানসারের লক্ষণ
ছবি : সংগৃহীত

রাতে একবার ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করতে যাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। কিন্তু যদি এটি নিয়মিত হতে থাকে এবং রাতে বারবার ঘুম ভাঙে, তখন তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সমস্যাকে বলা হয় নকটুরিয়া। এটি শুধু ঘুমের ব্যাঘাতই ঘটায় না, দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, রাতে ঘনঘন প্রস্রাব কি ব্লাডার ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে? চিকিৎসকরা বলছেন, বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া না গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর পেছনে অন্য কারণ থাকে।

নকটুরিয়া কী

নকটুরিয়া হলো রাতে একাধিকবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম থেকে উঠতে হওয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে তরুণদের মধ্যেও এটি হতে পারে।

এর পেছনে সাধারণত যেসব কারণ কাজ করে সেগুলো হলো:

  • মূত্রনালির সংক্রমণ
  • ডায়াবেটিস
  • অতিরিক্ত পানি বা চা-কফি পান
  • ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডার
  • কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  • বয়সজনিত ব্লাডারের পরিবর্তন

চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নকটুরিয়া ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং এটি সাধারণ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য একটি সমস্যা।

ব্লাডার ক্যানসার কীভাবে আলাদা

ব্লাডার ক্যানসার সাধারণত মূত্রথলির ভেতরের আবরণে তৈরি হয়। এই রোগের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া। এ ছাড়া প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ বা তলপেটে ব্যথাও হতে পারে।

ধূমপান, কিছু রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ, দীর্ঘদিনের ব্লাডার ইনফেকশন এবং বয়স বৃদ্ধিকে ব্লাডার ক্যানসারের ঝুঁকির কারণ হিসেবে ধরা হয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু রাতে প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙা সাধারণত ব্লাডার ক্যানসারের প্রাথমিক বা একমাত্র লক্ষণ নয়। বেশির ভাগ সময় এর সঙ্গে অন্য উপসর্গও থাকে।

রাতে ঘনঘন প্রস্রাবের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক আছে কি

বিশেষজ্ঞদের মতে, নকটুরিয়ার সঙ্গে ব্লাডার ক্যানসারের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্লাডারে টিউমার হলে মূত্রথলির স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা কমে যেতে পারে। তখন রোগীর রাতে বারবার প্রস্রাবের চাপ অনুভূত হতে পারে।

তবে এমন পরিস্থিতিতেও সাধারণত আরও কিছু লক্ষণ দেখা যায়। যেমন:

  • প্রস্রাবে রক্ত
  • প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া
  • হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া
  • তলপেটে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা
  • প্রস্রাব আটকে যাওয়া বা অসম্পূর্ণ হওয়ার অনুভূতি

তাই শুধু রাতে প্রস্রাবের জন্য জেগে ওঠাকে ব্লাডার ক্যানসারের নিশ্চিত লক্ষণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

চিকিৎসকরা বলছেন, সমস্যাটি যদি নতুনভাবে শুরু হয়, ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বা অন্য উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত।

বিশেষ করে নিচের লক্ষণগুলো থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে:

  • প্রস্রাবে রক্ত দেখা
  • প্রস্রাবের সময় তীব্র ব্যথা
  • জ্বর বা দুর্বলতা
  • অকারণে ওজন কমে যাওয়া
  • তলপেটে দীর্ঘদিনের অস্বস্তি

সাধারণ ইউরিন টেস্ট, আলট্রাসনোগ্রাম বা সিস্টোস্কোপির মাধ্যমে ব্লাডারের সমস্যাগুলো নির্ণয় করা সম্ভব।

রাতে বারবার প্রস্রাব কমাতে যা করবেন

চিকিৎসকদের মতে, কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে নকটুরিয়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

  • রাতে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত পানি পান কমান
  • চা, কফি ও কোমলপানীয় সীমিত করুন
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন
  • ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
  • রাতের খাবার খুব দেরি করে খাবেন না

রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া সবসময় গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। অধিকাংশ সময় এটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা বা জীবনযাপনের অভ্যাসের কারণে হয়। তবে এর সঙ্গে যদি প্রস্রাবে রক্ত, ব্যথা বা অন্য অস্বাভাবিক উপসর্গ যোগ হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে কোনো রোগের ক্ষেত্রেই দ্রুত শনাক্তকরণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই শরীরের পরিবর্তনগুলো অবহেলা না করাই ভালো।

সূত্র: এনডিটিভি