logo
Advertisement

ঘুমের মধ্যে কি হঠাৎ শরীর কেঁপে ওঠে, হিপনিক জার্ক বাড়ার ৬ কারণ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ঘুমের মধ্যে কি হঠাৎ শরীর কেঁপে ওঠে, হিপনিক জার্ক বাড়ার ৬ কারণ
ছবি: ক্যাস্পার ম্যাটরেস

ঘুমিয়ে পড়ার ঠিক আগমুহূর্তে হঠাৎ মনে হলো কোথাও থেকে পড়ে যাচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গে হাত-পা বা পুরো শরীর এক ঝটকায় কেঁপে উঠল। কখনো এমন ঝাঁকুনিতে ঘুমও ভেঙে যায়। অনেকেরই এমন অভিজ্ঞতা আছে। হঠাৎ এমন হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি ঘুমের স্বাভাবিক একটি অংশ।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ধরনের আকস্মিক অনৈচ্ছিক পেশি সংকোচনকে হিপনিক জার্ক বা হিপনাগগিক জার্ক বলা হয়। সাধারণত জেগে থাকা থেকে ঘুমের দিকে যাওয়ার সময় এটি ঘটে। শরীর শিথিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকলাপে পরিবর্তন আসে। সেই সময় হঠাৎ পেশিতে সংকোচন তৈরি হলে শরীর ঝাঁকুনি দিতে পারে।

হিপনিক জার্ক আসলে কী?

হিপনিক জার্ক হলো ঘুমিয়ে পড়ার সময় হওয়া হঠাৎ ও অনৈচ্ছিক পেশির নড়াচড়া। এটি কখনো শুধু হাত বা পায়ে হতে পারে, আবার কখনো পুরো শরীরেই ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। কারও ক্ষেত্রে এর সঙ্গে মনে হতে পারে তিনি ওপর থেকে পড়ে যাচ্ছেন বা হঠাৎ কোনো ধাক্কা খেয়েছেন।

এটি সাধারণত ঘুমের একেবারে শুরুর পর্যায়ে ঘটে এবং বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর নয়। গবেষকেরা এর সঠিক কারণ পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে জানেন না। ঘুমের দিকে যাওয়ার সময় স্নায়ুতন্ত্রে সাময়িক ভুল সংকেত বা মস্তিষ্কের ঘুমে প্রবেশের প্রক্রিয়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

কেন ঘুমের মধ্যে শরীর কেঁপে ওঠে?

হিপনিক জার্কের নির্দিষ্ট একটি কারণ নেই। তবে কিছু পরিস্থিতিতে এর প্রবণতা বাড়তে পারে।

ঘুমের অভাব: নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ও মস্তিষ্কে ক্লান্তি জমতে থাকে। ঘুমের ঘাটতি হিপনিক জার্ক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। তাই প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত ক্লান্তি: সারাদিন শারীরিক বা মানসিকভাবে বেশি পরিশ্রম করার পর দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার সময় কারও কারও হিপনিক জার্ক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে যখন শরীর খুব ক্লান্ত থাকে, তখন ঘুমের দিকে যাওয়ার পরিবর্তনটি তুলনামূলক দ্রুত হতে পারে।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: সারাদিনের দুশ্চিন্তা যদি ঘুমের সময়ও মাথায় ঘুরতে থাকে, তাহলে শরীর পুরোপুরি শিথিল হতে দেরি করতে পারে। মানসিক চাপ ঘুমের মান খারাপ করার পাশাপাশি হিপনিক জার্কের প্রবণতাও বাড়াতে পারে।

অতিরিক্ত ক্যাফেইন: রাতে বেশি চা, কফি বা অন্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় খেলে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। ক্যাফেইন স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত রাখে এবং ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হিপনিক জার্ক বেশি দেখা দিতে পারে।

রাতে অতিরিক্ত ব্যায়াম: নিয়মিত ব্যায়াম ঘুমের জন্য উপকারী। তবে ঘুমানোর একেবারে কাছাকাছি সময়ে খুব তীব্র ব্যায়াম করলে শরীর ও মস্তিষ্ক কিছু সময় বেশি সক্রিয় থাকতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি ঘুমে প্রবেশের সময় অস্বস্তি বা হিপনিক জার্কের প্রবণতা বাড়াতে পারে।

অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস: প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমানো, রাতে দীর্ঘ সময় জেগে থাকা বা ঘুমের রুটিন বারবার পরিবর্তন করা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করতে পারে। এর ফলে ঘুমের সময় বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

হিপনিক জার্ক কমাতে কী করবেন?

মাঝেমধ্যে হিপনিক জার্ক হলে সাধারণত আলাদা চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে বারবার হলে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করে এর প্রবণতা কমানোর চেষ্টা করা যায়।

  • প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন
  • পর্যাপ্ত সময় ঘুমান
  • সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা ও কফি এড়িয়ে চলুন
  • ঘুমের আগে মোবাইল ও অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহারের সময় কমান
  • ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট শান্তভাবে বিশ্রাম নিন
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন, তবে খুব তীব্র ব্যায়াম ঘুমের একেবারে আগে না করাই ভালো
  • শোবার ঘর শান্ত, আরামদায়ক ও ঘুমের উপযোগী রাখুন
  • মানসিক চাপ বেশি থাকলে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা রিল্যাক্সেশন পদ্ধতি চেষ্টা করতে পারেন

এসব অভ্যাস হিপনিক জার্ক পুরোপুরি বন্ধ করবে এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে ঘুমের মান ভালো রাখতে এবং কিছু ট্রিগার কমাতে সাহায্য করতে পারে।

কখন হিপনিক জার্ক নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

ঘুমিয়ে পড়ার সময় মাঝেমধ্যে একবার শরীর কেঁপে ওঠা সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। তবে ঝাঁকুনি যদি খুব ঘন ঘন হতে থাকে এবং নিয়মিত ঘুম নষ্ট করে, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো।

বিশেষ করে দিনের বেলাতেও যদি বারবার অনিয়ন্ত্রিত পেশির সংকোচন বা ঝাঁকুনি হতে থাকে, শরীরের বিভিন্ন অংশে তা ছড়িয়ে পড়ে, অথবা ঘুমের সময় হিপনিক জার্কের মতো না হয়ে বারবার হাত-পা নড়াচড়া বা লাথি দেওয়ার ঘটনা ঘটে, তাহলে বিষয়টি অন্য কোনো নড়াচড়াজনিত বা ঘুমের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না তা চিকিৎসকের মাধ্যমে যাচাই করা দরকার।

হঠাৎ শরীর কেঁপে উঠলে ভয় পাওয়ার দরকার নেই

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শরীর কেঁপে ওঠা বেশ চমকে দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের পরিবর্তনের সঙ্গেই সম্পর্কিত। বিশেষ করে ঘুমের অভাব, ক্লান্তি, মানসিক চাপ এবং বেশি ক্যাফেইনের মতো বিষয় থাকলে এটি বেশি অনুভূত হতে পারে।

তাই এমন ঘটনা মাঝে মধ্যে হলে আতঙ্কিত হওয়ার বদলে ঘুমের রুটিন ঠিক করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং রাতে ক্যাফেইন কমানোর দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। তবে ঝাঁকুনি নিয়মিত হতে থাকলে বা জেগে থাকা অবস্থাতেও এমন নড়াচড়া হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

ঘুমিয়ে পড়ার সময় হঠাৎ শরীর কেঁপে ওঠে বা মনে হয় ওপর থেকে পড়ে যাচ্ছেন? জেনে নিন হিপনিক জার্ক কেন হয়, কোন কারণে বাড়তে পারে এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

সূত্র: টিভি ৯