logo

স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত ডাক্তার-ফার্মাসিস্ট-নার্সদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন: ড. জাকির

স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত ডাক্তার-ফার্মাসিস্ট-নার্সদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন: ড. জাকির
ড. জাকির আহমেদ চৌধুরী। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ওষুধ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি যেমন জীবন রক্ষা করে, তেমনি জীবন কেড়েও নিতে পারে। ওষুধ ব্যবহারের পর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। এতে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বিরূপ আবহাওয়া, পরিবেশ ও সুষম খাবারের অভাবে অধিকাংশ মানুষ অসুস্থতার শিকার হন। এ অবস্থায় দেশের স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট ও নার্সদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. জাকির আহমেদ চৌধুরী।

সম্প্রতি এশিয়া পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।

ড. জাকির আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে ফার্মাকোভিজিল্যান্সকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে প্রয়োজন নিয়মিত এবং সহজ রিপোর্টিংয়ের ব্যবস্থা করা ওষুধ রোগ নিরাময় ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ওষুধ ব্যবহারের পরে প্রতিনিয়ত এর সঙ্গে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য প্রতিনিয়ত ওষুধের পর্যবেক্ষণ অতীব জরুরি। আর এ পর্যবেক্ষণের কাজটি করা হয় ফার্মাকোভিজিল্যান্সের মাধ্যমে।’

ফার্মাকোভিজিল্যান্স বিষয়টি কী? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওষুধ ব্যবহারের পর তার নিরাপত্তাজনিত এবং অন্যান্য সমস্যাগুলোর তথ্য সংগ্রহ, মূল্যায়ন এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলোকে শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অনেক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমেই আমরা ওষুধের একটি সেফটি সিগন্যাল শনাক্ত করতে পারি। বাংলাদেশে সম্প্রতি ডিরেক্টর অব ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন একটি ডিজিডিএ ফার্মাকোভিজিল্যান্স রিপোর্টিং সিস্টেম চালু করেছে। কিন্তু এ রিপোর্টিং সিস্টেম চালু করাটাই যথেষ্ট নয়, এর কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করাও অতীব জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানোর জন্য প্রয়োজন চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, নার্সসহ সব স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী এবং সাধারণ মানুষের জনসচেতনতা। ওষুধ ব্যবহারের পর কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে রোগী নিশ্চিত না হয়ে সাধারণত রিপোর্ট করতে চান না। তবে প্রতিটি সন্দেহজনক ঘটনাই রিপোর্ট করা প্রয়োজন। যখন রোগীরা নির্দিষ্ট কোনো সমস্যার কথা জানাবেন, তা স্বাস্থ্যসেবায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’

অধিকতর সচেতনতার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক বলেন, ‘সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট ও নার্সদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। দায়িত্বশীলদের উচিত বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কারিকুলামেও অন্তর্ভুক্ত করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোগীদের বিভিন্ন রকমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে নিয়মিত রিপোর্টিংয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও ওষুধ কোম্পানির মধ্যে সমন্বয় জরুরি। ফার্মাকোভিজিল্যান্সের উদ্দেশ্য শুধু অ্যাডভান্স ইভেন্টের রিপোর্ট সংগ্রহ করা নয়, বরং তথ্যগুলো কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের রোগীদের চিকিৎসাকে নিরাপদ করা। ওষুধ জগতে কাজ করা সবার উচিত, নিরাপদ ওষুধ ও নিরাপদ ব্যবহার এবং নিরাপদ রোগী—এ তিনটি বিষয় সামনে রেখেই কাজ করতে হবে।’

নূর মামুন

সম্পাদনা

নূর মামুন

জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক | এশিয়া পোস্ট