logo
Advertisement

ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে শরীরে কী কী লক্ষণ দেখা দেয়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে শরীরে কী কী লক্ষণ দেখা দেয়
ছবি: লাইভ সাইন্স

হঠাৎ পায়ের বুড়ো আঙুলে তীব্র ব্যথা, গাঁট ফুলে যাওয়া বা হাঁটাচলায় কষ্ট হচ্ছে? অনেকেই এমন উপসর্গকে সাধারণ বাতের ব্যথা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন মাত্রা বেশি থাকলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে গাউট বা কিডনিতে পাথরের মতো সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলেই সবার শরীরে উপসর্গ দেখা যায় না।

ইউরিক অ্যাসিড কী?

ইউরিক অ্যাসিড হলো শরীরে পিউরিন ভাঙার পর তৈরি হওয়া একটি বর্জ্য পদার্থ। সাধারণত রক্তের মাধ্যমে এটি কিডনিতে পৌঁছায় এবং প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। শরীর অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করলে বা কিডনি পর্যাপ্ত পরিমাণে তা বের করতে না পারলে রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকাকে হাইপারইউরিসেমিয়া বলা হয়। তবে শুধু রক্ত পরীক্ষায় ইউরিক অ্যাসিড বেশি পাওয়া মানেই গাউট হয়েছে, এমন নয়। অনেকের ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলেও কোনো উপসর্গ থাকে না।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

বিভিন্ন কারণে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে পারে। যেমন-

  • কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়া
  • অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • বিপাকীয় সমস্যা বা মেটাবলিক সিনড্রোম
  • অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান
  • ফ্রুক্টোজযুক্ত মিষ্টি পানীয় বেশি খাওয়া
  • পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া
  • পরিবারের কারও গাউটের ইতিহাস থাকা
  • কিছু ওষুধ, বিশেষ করে কিছু ডাইইউরেটিক বা পানি কমানোর ওষুধ
  • কিছু দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা

এ ছাড়া শরীরের বংশগত বৈশিষ্ট্যও ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।

ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

পায়ের বুড়ো আঙুলে হঠাৎ তীব্র ব্যথা: গাউটের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো হঠাৎ করে কোনো একটি গাঁটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হওয়া। অনেক সময় রাতের দিকে বা ঘুমের মধ্যে এই ব্যথা শুরু হয়। পায়ের বুড়ো আঙুলের গোড়ার গাঁট সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হলেও গোড়ালি, হাঁটু, কবজি, আঙুল বা কনুইয়েও সমস্যা হতে পারে।

গাঁট ফুলে যাওয়া ও গরম হয়ে ওঠা: আক্রান্ত গাঁট ফুলে যেতে পারে, স্পর্শ করলে গরম লাগতে পারে এবং ত্বক লালচে হয়ে যেতে পারে। ব্যথা এতটাই তীব্র হতে পারে যে হাঁটা বা গাঁটে সামান্য চাপ দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

গাঁট নড়াচড়ায় সমস্যা: গাউটের প্রদাহের কারণে আক্রান্ত গাঁট স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করা কঠিন হতে পারে। তীব্র ব্যথা কমে যাওয়ার পরও কিছুদিন অস্বস্তি বা ব্যথা থাকতে পারে।

কিডনিতে পাথরের সমস্যা: দীর্ঘদিন ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ইউরেট ক্রিস্টাল জমে কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে। তখন কোমর বা পিঠের নিচের দিকে, পাশের অংশে কিংবা তলপেটে ব্যথা হতে পারে। প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়াও হতে পারে।

তবে প্রস্রাবে জ্বালা, দুর্গন্ধ বা রক্ত দেখা গেলেই সেটি ইউরিক অ্যাসিডের কারণে হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মূত্রনালির সংক্রমণসহ আরও নানা সমস্যায় এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


শুধু ব্যথা হলেই কি ইউরিক অ্যাসিড বেশি?

না। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলেও অনেকের কোনো উপসর্গ থাকে না। আবার গাঁটে ব্যথা হলেই সেটি ইউরিক অ্যাসিডের কারণে হচ্ছে, এমনটাও নয়। গাউট নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসক উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা, রক্তের ইউরিক অ্যাসিড পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে আক্রান্ত গাঁটের তরল পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষা বিবেচনা করতে পারেন।

তাই শুধু একটি লক্ষণ দেখে নিজে থেকে ইউরিক অ্যাসিডের ওষুধ শুরু করা ঠিক নয়।

ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?

খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন ইউরিক অ্যাসিড ও গাউটের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে ওজন কমানো, পর্যাপ্ত পানি পান করা, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা এবং অতিরিক্ত মিষ্টি বা ফ্রুক্টোজযুক্ত পানীয় কমানো উপকারী হতে পারে। পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার, বিশেষ করে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস ও কিছু সামুদ্রিক খাবার অতিরিক্ত না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে সবার জন্য একই খাদ্যতালিকা প্রয়োজন হয় না। কিডনির রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকলে খাবার ও ওষুধের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

প্রথমবার হঠাৎ কোনো গাঁটে তীব্র ব্যথা ও ফোলা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে গাঁট ফুলে যাওয়ার সঙ্গে জ্বর, কাঁপুনি বা শরীর খারাপ লাগলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। কারণ গাউটের মতো দেখতে কিছু সংক্রমণও গাঁটে তীব্র ব্যথা ও প্রদাহ তৈরি করতে পারে।

প্রস্রাবে রক্ত, তীব্র কোমর বা পাশের ব্যথা, প্রস্রাবের সমস্যা কিংবা বারবার গাঁটে ব্যথা হলেও পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকা মানেই গাউট নয় এবং গাঁটে ব্যথা মানেই ইউরিক অ্যাসিড বেশি, এমনও নয়। সঠিক কারণ জানতে প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের মূল্যায়ন জরুরি।

সূত্র: এই সময় অনলাইন