আশুরার দিনে শুক্রবারই কি কেয়ামত হবে

ইসলামের মৌলিক আকিদার অন্যতম একটি বিষয় ‘কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে বিশ্বাস রাখা’। কেয়ামত চিরন্তন সত্য। এর মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনের সমাপ্তি ঘটবে এবং আখেরাতের জীবনের শুরু হবে।
কেয়ামতের তিনটি অবস্থা রয়েছে। এর প্রথম পর্যায় হলো ব্যক্তির মৃত্যু। দ্বিতীয় পর্যায় হলো মহাপ্রলয়, যার মাধ্যমে সব সৃষ্টি ধ্বংস বা বিলীন হয়ে যাবে। তৃতীয় পর্যায় শিঙায় দ্বিতীয় ফুৎকারের পর চূড়ান্ত কেয়ামত অর্থ্যাৎ হাশর ও নশর তথা পুনরুত্থান ও মহামিলন অনুষ্ঠিত হবে।
কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টিজগৎ ধ্বংস করে পুনরায় জীবিত করবেন এবং মানুষের সব কাজের হিসাব-নিকাশ গ্রহণ করবেন। কেয়ামতের দিনে সব মানুষ পুনরুত্থিত হবে এবং তাদের আমল অনুযায়ী বিচার করা হবে।
কেয়ামত কখন হবে এ বিষয়ে কোরআন-হাদিসে নির্ধারিত সময়ের কথা বলা হয়নি। এর সুনির্দিষ্ট সময় একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন। তবে কেয়ামতের ছোট-বড় আলামত বা নির্দশনের কথা এসেছে। এর মধ্যে কিছু নিদর্শন প্রকাশিত হয়েছে। কিছু ভবিষ্যতে প্রকাশ পাবে। কোরআনে আছে, ‘তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যে, তা কখন সংঘটিত হবে। বলো, এর জ্ঞান তো একমাত্র আমার প্রতিপালকের কাছেই আছে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৮৭)
কেয়ামতের সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই আছে। তবে হাদিসে আছে, কেয়ামত জুমার দিন সংঘটিত হবে। তবে কোন জুমার দিন হবে, কোন মাস বা কোন বছরে হবে—তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হলো জুমার দিন। এ দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দিন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। এ দিনই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। কেয়ামতও সংঘটিত হবে এ দিনেই।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)
মহররম মাসের আশুরার দিনের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে অনেকে বলেন, আশুরার দিনে কেয়ামত সংঘটিত হবে। ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, আশুরার দিনেই কেয়ামত সংঘটিত হবে—এ কথার কোনো ভিত্তি নেই। এ ছাড়াও হজরত ইউসুফ (আ.)-এর জেল থেকে মুক্তি, ইয়াকুব (আ.) চোখের জ্যোতি ফিরে পাওয়া, ইউনুস (আ.)-এর মাছের পেট থেকে মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে মহররম মাস বা আশুরার কোনো সম্পর্ক নেই।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারে ‘প্রচলিত ভুল’ সাব-হেডের এক শিরোনামে লেখা হয়েছে, ‘আশুরার দিনে কেয়ামত সংঘটিত হবে—এ কথা সঠিক নয়। যে বর্ণনায় আশুরার দিন কেয়ামত হওয়ার কথা এসেছে, তা হাদিস বিশারদদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভিত্তিহীন, জাল।’
তালিমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকার পরিচালক মুফতি লুৎফর রহমান ফরায়েজী বলেন, ‘জুমার দিন কেয়ামত হবে—এ কথা সহিহ হাসিদ দিয়ে প্রমাণিত। কিন্তু দশে মহররম বা আশুরার দিন কেয়ামত হবে—এমন কথা বিশুদ্ধ হাদিস দিয়ে প্রমাণিত নয়।’





