শত বছরের পুরোনো মাটির সেই মসজিদটি এখন ‘ধ্বংসস্তূপ’

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নওগাঁ
শত বছরের পুরোনো মাটির সেই মসজিদটি এখন ‘ধ্বংসস্তূপ’
কালবৈশাখী ঝড়ে মসজিদের মাটির মিনারের ওপরের বাঁশ ও টিনের ছাউনি উড়ে গেছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

শত বছর আগে পূর্বপুরুষদের হাত ধরে তালপাতা ও বাঁশ দিয়ে গড়ে উঠেছিল মসজিদটি। কালের পরিক্রমায় ৩০ বছর আগে সেটি মাটির দেয়ালের মসজিদে রূপ নেয়। কিন্তু সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চক আন্দারু গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ওয়াক্তিয়া মসজিদটি আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

Advertisement

সম্প্রতি এক তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ে মসজিদের মাটির মিনারের ওপরের বাঁশ ও টিনের ছাউনি উড়ে যাওয়ার পর থেকে সেখানে আজান দেওয়া ও নামাজ আদায় প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চক আন্দারু গ্রামের সরকারি খাসজমিতে প্রায় ৫০টি মুসলিম পরিবার শত বছর ধরে বসবাস করে আসছে। দিনমজুরি ও কৃষিকাজই এই জনপদের মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস। নিজেদের অর্থে একটি পাকা মসজিদ নির্মাণের সামর্থ্য নেই স্থানীয় বাসিন্দাদের।

মুসল্লিরা জানান, ঝড়-বৃষ্টির এই মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই মসজিদের ভেতরে হাঁটুপানি জমে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে প্রতিদিন প্রায় এক কিলোমিটার দূরের চক-গৌরি গ্রামের মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সানারুল ইসলাম ও মুসল্লি মজুন হোসেন ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে জানান, বছরখানেক আগে মসজিদের পাশের একটি কমলাবাগান পরিদর্শনে এসে পত্নীতলা উপজেলার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মসজিদটি সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বদলি হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সরকারি অনুদান মেলেনি।

এর আগে ২০০৬ সালের দিকে সরকারিভাবে মাত্র ১২ হাজার টাকা সমমূল্যের গম বা ধানের অনুদান পাওয়া যায়। সেই অর্থে খেজুরগাছের বিম ও বাঁশের চাটাইয়ের ওপর টিনের ছাউনি দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহায়তা মেলেনি এই মসজিদের জন্য।

মসজিদ কমিটির সভাপতি রানা বলেন, ঝড়-বৃষ্টির কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা নিজ গ্রামে নামাজ আদায় করতে পারছেন না। দূরের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে তাঁদের খুব কষ্ট হচ্ছে। নিজেদের অর্থে মসজিদটি সংস্কার করার সামর্থ্য তাঁদের নেই।

এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা বলেন, বহু বছরের পুরোনো মাটির তৈরি এই মসজিদটি চলতি মৌসুমে কালবৈশাখী ঝড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু এই মসজিদ নয়, উপজেলার আরও বেশ কয়েকটি পুরোনো মাটির স্থাপনা ও গাছপালার ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে সরকারি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া বিদেশি বা বেসরকারি কোনো সহযোগিতার সুযোগ থাকলে সেটিও কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হবে।

বিষয় :নওগাঁ