স্বপ্নে সাহাবি ও নেককার ব্যক্তিকে দেখলে কী হয়

ইসলামে স্বপ্নের ব্যাখ্যাকে নবুওয়াতের ৪৬ ভাগের এক ভাগ বলা হয়েছে। স্বপ্ন একটি সর্বজীনন অথচ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, যার জন্য বিভিন্ন সংস্কৃতিকে সাধারণ ব্যাখ্যা প্রচলিত। ইসলামে স্বপ্নের জগৎ- চেতনা ও অবচেতনার সীমানা; অদৃশ্যের অংশ। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহই মানুষের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা জীবিত, তাদের প্রাণ নিয়ে যান তাদের ঘুমের সময়। তারপর যাদের মৃত্যু নির্ধারিত হয়েছে, তাদের প্রাণ রেখে দেন, আর অন্যদের প্রাণ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ছেড়ে দেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৪২)
মানুষ ঘুমের ঘরে প্রায়ই স্বপ্ন দেখে। কখনও সাহাবি (হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সহযোগী), তাবিয়ি (সাহাবিদের পরবর্তী প্রজন্মের মানুষ) বা মুসলিম মনীষীদের দেখে। স্বপ্নে যদি কেউ সাহাবি বা তাবিয়িদের যেকোনো একজনকে বা সবাইকে জীবিত দেখে, তা হলে এটা তার এবং তার পরিবারের দ্বীনি শক্তি ও যোগ্যতার প্রমাণ। যে স্বপ্নে দেখেছে, তার সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। নিজের কর্মকাণ্ডে সে হবে প্রশংসিত। যদি দেখে, সে তাদের একজনে পরিণত হয়েছে, তা হলে কঠিন বিপদে পড়বে; পরে অবশ্যই সে জয়ী থাকবে। তাদেরকে যদি কয়েকবার স্বপ্নে দেখে, তা হলে সেটা তার উত্তম পন্থায় জীবিকা নির্বাহকে বুঝাবে।
আবু বকর (রা.)-কে জীবিত স্বপ্নে দেখা; আল্লাহর বান্দাদের প্রতি দয়া ও মমতার গুণে স্বপ্নদ্রষ্টাকে গুণান্বিত করার ইঙ্গিত করে।
উমর (রা.)-কে স্বপ্নে দেখা; স্বপ্নদ্রষ্টাকে ধর্মীয় শক্তি, ন্যায়পরায়ণতা এবং অধীনস্থদের প্রতি সদ্ব্যবহারের গুণে গুণান্বিত করা বুঝায়।
উসমান (রা.)-কে জীবিত স্বপ্নে দেখা, লজ্জা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের গুণে গুণান্বিত হওয়ার লক্ষণ এবং ওই ব্যক্তির হিংসুক বেড়ে যাবে।
আলি (রা.)-কে জীবিত স্বপ্নে দেখা, জ্ঞান, পরিশুদ্ধ সাহস ও তপস্যার গুণে সম্মানিত হওয়ার আলামত।
যদি কেউ স্বপ্নে কারীদের এক জায়গায় জড়ো হতে দেখে, তা হলে সেখানে রাষ্ট্রের প্রধান, সুলতান, বণিক এবং বিদ্বানরা জড়ো হবেন।
মৃত কোনো নেককার ব্যক্তিকে কোনো শহরে জীবিত দেখা, ওই শহরবাসীর স্বচ্ছলতা লাভের লক্ষণ। এ ছাড়া শাসকদের পক্ষ থেকে দেশবাসী ন্যায়বিচার পাবে এবং নেতৃস্থানীয় লোকদের মাঝে শুদ্ধি দেখা দেবে। (সূত্র: আল্লামা ইবনে সিরিনের ‘স্বপ্নের ব্যাখ্যা’ বই থেকে সংক্ষেপিত)।
