Advertisement

কবরস্থানের ওপর বাড়ি বানানো যাবে কি

এশিয়া পোস্ট নিউজ
কবরস্থানের ওপর বাড়ি বানানো যাবে কি

সাধারণত কবরস্থানের ওপর ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করা জায়েজ নেই। তবে কবর যদি পুরোনো এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন হয়, তাহলে একান্ত প্রয়োজনে কবরের ওপর ঘরবাড়ি নির্মাণ করা যাবে। কবরের জায়গায় মানুষের ধ্বংসাবশেষ থাকার সম্ভাবনা থাকলে তা সরিয়ে অন্য জায়গায় দাফন করতে হবে। 

ইসলামি গবেষকরা বলেন, একান্ত কোনো কারণে যদি ব্যক্তি মালিকাধীন কবরের জায়গায় বাড়িঘর নির্মাণ করতে হয়, তাহলে করা যাবে। সেখানে মানুষের ধ্বংসাবশেষ থাকার সম্ভাবনা থাকলে সরিয়ে নতুন জায়গায় দাফন করতে হবে। তবে ওয়াকফ বা কবরস্থানের নামে দান করা হলে সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করা যাবে না।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারে এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, কবরের জায়গা যদি ওয়াকফকৃত না হয়, বরং ব্যক্তি মালিকানাধীন হয় এবং কবর এত পুরাতন হয় যে, লাশ মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার প্রবল ধারণা হয়, তাহলে ওই কবরের চিহ্ণ সমান করে এর ওপর বাড়ি-মসজিদ ইত্যাদি নির্মাণ করা যাবে। কেননা লাশ মাটি হয়ে গেলে তা আর কবরের অন্তর্ভুক্ত থাকে না।’ (আলবাহরুর রায়েক, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৬৭)

একান্ত অপারগ না হলে কবরের ওপর ঘরবাড়ি নির্মাণ করা জায়েজ নেই। জায়েজ নেই কবরের ওপর কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কোনো ব্যক্তির আগুনের টুকরার ওপরে বসা এবং সে টুকরাটা তার কাপড়কে পুড়িয়ে তার চামড়া পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া তার জন্য বেশি উত্তম হবে কবরের ওপর বসার চেয়ে।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ১৬৯৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) কবরে চুনকাম করতে, তার ওপরে লিখতে, বসতে, কোনো কিছু নির্মাণ করতে এবং হাঁটতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯৭০)

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে ‘কবরস্থানের ওপর বাড়ি বানানো যাবে কি না’ প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কবরস্থানের ওপর বাড়ি নির্মাণ করা যাবে না। কারণ, হজরত মুহাম্মদ (সা.) কবরের ওপর স্থাপনা নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন। কবরের ওপর বাড়ি হলে মানুষ এটাকে একটা সময় শ্রদ্ধার জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে শিরকি কাজ হওয়ার শঙ্কা থাকে। তবে যদি কবরের আলামত না থাকে, কবরের ওপর ঘর নির্মাণ করা ছাড়া ব্যক্তির উপায় না থাকে, তাহলে সেখানে শর্ত সাপেক্ষে নির্মাণ করা যাবে।’ 

তিনি বলেন, ‘কোনো কারণে যদি কবরের ওপর রাস্তা করার প্রয়োজন দেখা দেয়, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে মৃতদের ধ্বংসাবশেষ তুলে অন্য কোনো জায়গায় দাফন করবে। এরপর রাস্তা নির্মাণ করবে।’