Advertisement

মেসেঞ্জারে পাঠানো সালামের জবাব দেওয়া কি আবশ্যক

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
মেসেঞ্জারে পাঠানো সালামের জবাব দেওয়া কি আবশ্যক
ছবি: সংগৃহীত

তথ্য প্রযুক্তি মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করেছে। পরস্পরের যোগাযোগকে করেছে একবারেই সাবলীল। মানুষ চাইলে মুহূর্তে দূরের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে। কথা বলতে পারছে। বর্তমানে কথা বলা ও বার্তা আদান-প্রদানের অন্যতম মাধ্যম মেসেঞ্জার, হোয়াটস্যাপ, ইমো, ইমেইল। এসব ব্যবস্থাপনায় প্রায় মুসলমানই একে অপরকে সালাম দিচ্ছেন। কেউ সালাম দিচ্ছেন লিখে। কেউ দিচ্ছেন ভয়েস পাঠিয়ে। অনেকে জানতে চান, প্রযুক্তি নির্ভর এই অ্যাপসে কেউ সালাম লিখে পাঠালে এর জবাব দেওয়া জরুরি কি না?

পৃথিবীর সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা বিনিময়, কল্যাণ কামনা এবং অন্তরঙ্গতা প্রদর্শনে অভিবাদনের বিশেষ পরিভাষা প্রচলিত রয়েছে। ইসলামে অভিবাদনের মাধ্যম সালাম দেওয়া। সাক্ষাতে সালাম বিনিময় হলো শ্রেষ্ঠতম অভিবাদন পদ্ধতি। সালাম হলো, ‘আসসালামু আলাইকুম’ (তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)।

আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম আদমকে (আ.) সালামের শিক্ষা দিয়েছেন। আদমকে সৃষ্টির পর আল্লাহ তাঁকে ফেরেশতাদের সালাম দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি সালাম দিলে ফেরেশতারাও এর উত্তর দেন।

সাক্ষাৎকালে এক মুসলমান অপর মুসলমানকে সালাম দেওয়া প্রকারান্তরে অপর মুসলমানের জন্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও সারগর্ভ দোয়া করা এবং তার ইহ ও পরজাগতিক সব ধরনের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করা। মহানবী (সা.) সালাম দেওয়াকে ইসলামের সর্বোত্তম আমল বলেছেন। আগে সালামাদাতাকে অহংকারমুক্ত ব্যক্তি বলেছেন।

একজন মুসলিমের আরেক মুসলিমের ওপর যত হক বা অধিকার রয়েছে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হক হলো, পরস্পরকে সালাম দেওয়া। রাসুলুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একজন মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের ছয়টি বিশেষ হক রয়েছে, এক. সাক্ষাৎ হলে তুমি তাকে সালাম দেবে...।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২১৬২)

ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, মেসেঞ্জারে পাঠানো বা লিখিত সালামের জবাব দিতে হবে। জবাব লিখেও দেওয়া যায়, আবার ‍মুখে উচ্চারণ করেও দেওয়া যায়। মৌখিক জবাব তাকে শুনিয়ে দেওয়া আবশ্যক নয়। সালামের জবাবের জন্য তাকে পাল্টা উত্তর লেখাও জরুরি নয়।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারে এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘মেসেঞ্জারে লিখে পাঠানো সালামের জবাব লিখেও দেওয়া যায় আবার মুখে উচ্চারণ করেও দেওয়া যায়। মৌখিক জবাব তাকে শুনিয়ে দেওয়া জরুরি নয়। সালামের জবাবের জন্য তাকে পাল্টা উত্তর লেখা কিংবা ফোন করে জানানো কোনোটিই জরুরি নয়। বরং একাকী মুখে জবাব দিয়ে দিলেই হবে।’ (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৪১৫)

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ফাউন্ডেশনের ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সাধারণভাবে সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব। কেউ লিখিতভাবে বা মেসেঞ্জারে সালাম পাঠালে তার জবাব দেওয়াও ওয়াজিব। অফলাইনে সালাম দিলে জবাব দিতে হবে, অনলাইনে দিলে দিতে হবে না—এ রকম কোনো কথা কোরআন-হাদিসে নেই। সালামের জবাব না দিলে আমলনামায় গুনাহ লেখা হয়। অনলাইন বা অফলাইনে সালামের জবাব দিতে কার্পণ্য করা যাবে না।’