ফাইনালের একাদশে দুই কিশোর, স্পেনের পক্ষে বিস্ময়কর ইতিহাস

বিশ্বকাপ ফাইনালে অভিজ্ঞতাকেই সাধারণত সবচেয়ে বড় সম্পদ মনে করা হয়। কিন্তু ইতিহাসের একটি বিস্ময়কর পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। এখন পর্যন্ত কিশোর বয়সে ছেলেদের বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক ফাইনালে মাঠে নামা প্রত্যেক ফুটবলারই শেষ পর্যন্ত ট্রফি হাতে ফিরেছেন।
সেই বিরল ধারার পরবর্তী দুই নাম হতে পারেন স্পেনের লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি। বার্সেলোনার দুই ১৯ বছর বয়সী ফুটবলার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের সম্ভাব্য একাদশে রয়েছেন। স্পেন জিতলে পেলে, জিউসেপ্পে বেরগোমি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের বিশেষ তালিকায় জায়গা হবে তাদের। হারলে প্রথমবার ভাঙবে কিশোরদের শতভাগ সাফল্যের ধারা।
বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক ফাইনালে কিশোর হিসেবে খেলা প্রথম ফুটবলার পেলে। ১৯৫৮ সালে তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর ২৪৯ দিন। স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে ফাইনালে দুটি গোল করে ব্রাজিলকে ৫-২ ব্যবধানের জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। এখনো বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা ও গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার পেলে।
দ্বিতীয় নামটি ইতালির জিউসেপ্পে বেরগোমি। ১৯৮২ বিশ্বকাপের ফাইনালে ১৮ বছর ১৭৪ দিন বয়সে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ইতালির একাদশে ছিলেন এই ডিফেন্ডার। ৩-১ ব্যবধানের জয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ জেতে ইতালি।
এরপর অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩৬ বছর। ২০১৮ সালের ফাইনালে ১৯ বছর ২০৭ দিন বয়সে ফ্রান্সের হয়ে খেলেন এমবাপ্পে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ে নিজেও একটি গোল করেন তিনি। পেলের পর বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা দ্বিতীয় কিশোর হন ফরাসি তারকা।
১৯৫০ বিশ্বকাপে অবশ্য প্রচলিত অর্থে কোনো একক ফাইনাল ছিল না। চূড়ান্ত পর্বের শেষ ম্যাচে ব্রাজিলকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল উরুগুয়ে। সেই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ১৯ বছর বয়সী রুবেন মোরান পুরো ৯০ মিনিট খেলেছিলেন। সেটিই ছিল তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের একমাত্র ম্যাচ। ফিফা এই ম্যাচটিকেও হিসাবে রাখায় কিশোর বয়সে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ শুরু করে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ফুটবলারের সংখ্যা চার।
এবার একই ফাইনালে সেই তালিকায় যোগ হওয়ার সুযোগ ইয়ামাল ও কুবারসির। সদ্য ১৯ বছরে পা দেওয়া ইয়ামাল মাঠে নামলে পেলে ও বেরগোমির পর বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হবেন। তার কয়েক মাসের বড় কুবারসিও সর্বকনিষ্ঠদের তালিকায় এমবাপ্পের ওপরে জায়গা পাবেন।
দুজনই স্পেনের ফাইনালে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কুবারসি সাত ম্যাচের প্রতিটি মিনিট খেলেছেন। তাকে নিয়ে গড়া স্পেনের রক্ষণ সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে এবং ছয়টিতে গোলপোস্ট অক্ষত রেখেছে।
অন্যদিকে ইয়ামালের গোল একটি হলেও স্পেনের আক্রমণে তার প্রভাব অনেক বেশি। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তার আদায় করা পেনাল্টি থেকেই এগিয়ে যায় স্পেন। ডান প্রান্তে তার গতি ও বল নিয়ন্ত্রণ প্রতিপক্ষের একাধিক রক্ষককে ব্যস্ত রাখে, যার সুবিধা পান অন্য আক্রমণকারীরা।
দুই বার্সেলোনা সতীর্থই এবারের বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কারের প্রধান দাবিদার। তবে ব্যক্তিগত স্বীকৃতির আগে তাদের সামনে এখন মেসির আর্জেন্টিনা।
বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১টায় নিউ জার্সিতে শুরু হবে ফাইনাল। ইয়ামাল ও কুবারসি একাদশে থাকলে আর্জেন্টিনার সামনে শুধু স্পেনের ৩৭ ম্যাচের অপরাজিত ধারা ভাঙার চ্যালেঞ্জ থাকবে না, ভাঙতে হবে বিশ্বকাপ ফাইনালে কিশোরদের কখনো না হারার অদ্ভুত ইতিহাসও।
.png)






