গোল্ডেন বুট-বল-গ্লাভস জয়ে এগিয়ে যারা

নানা নাটকীয়তা, উত্তেজনা আর রোমাঞ্চে ভরা চলতি বিশ্বকাপ এখন শেষ পর্যায়ে। টুর্নামেন্টে বাকি আছে মাত্র দুটি ম্যাচ—ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী। চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে সোনালি ট্রফি তুলে দেওয়ার আগে ব্যক্তিগত পুরস্কার দেওয়া হয়। সেই লড়াই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
রোববার (১৯ জুলাই) নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এই ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই ফিফা ঘোষণা করবে আসরের সেরা খেলোয়াড়দের নাম।
এই ক্যাটাগরিতে দেওয়া হবে ছয়টি বড় পুরস্কার। যার মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ তিনটি হলো গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন গ্লাভস।
গোল্ডেন বুট
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া হয় এই পুরস্কার। ইতোমধ্যে এই দৌড়ে জমে উঠেছে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের লড়াই। এবারের আসরে দুজনেরই গোলসংখ্যা সমান ৮টি করে। তবে অ্যাসিস্টে এগিয়ে আছেন মেসি, তার অ্যাসিস্ট ৪টি, বিপরীতে এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট ৩টি।
নিয়ম অনুযায়ী, গোল সমান হলে অ্যাসিস্ট বিবেচনা করা হয়, আর সেখানেও সমতা থাকলে কম সময় মাঠে থাকা খেলোয়াড় এগিয়ে থাকেন। তাই ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচই নির্ধারণ করবে এই পুরস্কারের ভাগ্য।
এদিকে টুর্নামেন্টে ৭ গোল নিয়ে গোলদাতাদের তালিকায় মেসি ও এমবাপ্পের পরেই রয়েছেন নরওয়ের আর্লিং হলান্ড। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম সমান ৬টি করে গোল করেছেন। ফ্রান্সের ওসমান দেম্বেলে ও স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবাল করেছেন ৫টি করে গোল।
গোল্ডেন বল
বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়কে দেওয়া হয় গোল্ডেন বল। ২০২২ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন লিওনেল মেসি। ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের সুপারিশের ভিত্তিতে টুর্নামেন্ট কভার করা স্বীকৃত সাংবাদিকদের ভোটে নির্বাচিত হন সেরা ফুটবলার।
ইতিহাস বলছে, চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়ই সব সময় এই পুরস্কার জেতেন না। যেমন ২০০৬ সালে জিনেদিন জিদান, ২০১৮ সালে লুকা মদ্রিচ এবং ২০১৪ সালে মেসি রানার্সআপ দলের হয়েও গোল্ডেন বল জিতেছেন। কারণ ফাইনাল শুরুর আগেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। যদিও মেসি ব্যতিক্রম, ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়ে তিনি এই পুরস্কার বাগিয়ে নেন।
এখন পর্যন্ত একমাত্র ফুটবলার হিসেবে দুবার গোল্ডেন বল জিতেছেন আর্জেন্টিনার এই জাদুকর। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা এবারও পুরস্কারটির প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তার পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল অলিসে, হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহ্যাম, আর্লিং হলান্ড এবং কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা।
গোল্ডেন গ্লাভস
গোলরক্ষকদের মধ্যে চলে গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের লড়াই। এবারও সেটি নিয়ে চলছে জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষককে দেওয়া হয় এই পুরস্কার, যা ২০২২ সালে জিতেছিলেন আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ সেভ, ক্লিন শিট এবং ম্যাচে সামগ্রিক প্রভাব বিবেচনা করা হয়। ১৯৯৪ সালে চালু হওয়া এই পুরস্কার ২০১০ সাল পর্যন্ত লেভ ইয়াশিন অ্যাওয়ার্ড নামে পরিচিত ছিল।
এবারের আসরে গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্স ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া। কেপ ভার্দের ভোজিনহা দুর্দান্ত সব সেভ করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তার পাশাপাশি আলোচনায় আছেন উরুগুয়ের অরল্যান্ডো গিল, পর্তুগালের দিয়োগো কস্তা, সুইজারল্যান্ডের গ্রেগর কোবেল, মরক্কোর ইয়াসিন বুনো এবং মিসরের মোস্তফা শোবেইর।
বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচের পরই চূড়ান্ত হবে ব্যক্তিগত এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলোর ভাগ্য। বর্তমান পারফরম্যান্স বিবেচনায় গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বলের দৌড়ে লিওনেল মেসি এগিয়ে থাকলেও গোল্ডেন গ্লাভসের লড়াইয়ে সবচেয়ে আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন ভোজিনহা এবং স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন।
.png)






