স্বপ্নে অশ্লীল কিছু দেখলে কি গুনাহ হয়

মানুষের জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা স্বপ্ন দেখা। ঘুমের মধ্যে মূলত স্বপ্ন দেখা হয়। স্বপ্নে ভালো কিছু যেমন দেখা যায়, তেমনি দেখা যায় মন্দ বিষয়ও। আবার কখনও অপ্রত্যাশিত অশ্লীল বিষয়ও স্বপ্ন দেখে মানুষ। বিশেষ করে যৌন বিষয়ে কোনো কিছু স্বপ্ন দেখলে অনেকে নানাবিধ দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। কেউ কেউ মনে করেন, অশ্লীল স্বপ্ন দেখলে গুনাহ হয়।
ইসলামি শরিয়াহ মতে, স্বপ্ন মূলত তিন ধরনের হয়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের স্বপ্ন তিন ধরনের হয়ে থাকে। এক. ভালো স্বপ্ন, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বহন করে। দুই. দুঃখদানকারী স্বপ্ন, যা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। তিন. মনের মধ্যে উদ্ভূত কল্পনা, যা স্বপ্নে দেখা যায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৬৩)
স্বপ্ন মানুষের নিয়ন্ত্রণে নয়
ঘুমন্ত অবস্থায় চিন্তা ও কল্পনার ওপর মানুষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সে ইচ্ছা করলেও কোনো নির্দিষ্ট স্বপ্ন দেখতে পারে না, আবার অপছন্দের স্বপ্নও ঠেকাতে পারে না। এ কারণেই ইসলাম স্বপ্নকে মানুষের ইচ্ছাকৃত কর্মের অন্তর্ভুক্ত করেনি।
ইসলামের মৌলিক নীতি হলো, মানুষের ওপর সাধ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব চাপানো হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮৬)। কোনো ব্যক্তি ঘুমের মধ্যে অশ্লীল দৃশ্য দেখলে শুধু সেই স্বপ্ন দেখার কারণে তাকে পাপী বলা যাবে না। তার গুনাহ হবে না। কারণ, তিনি তা নিজের ইচ্ছায় দেখেননি। তাই স্বপ্ন নিয়ে অযথা অপরাধ বোধে ভোগার পরিবর্তে একজন মুমিনের উচিত, বাস্তব জীবনের আমলের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
ঘুমন্ত ব্যক্তি শরয়ি দায়িত্বের আওতামুক্ত
মানুষের আমল তখনই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হয়, যখন সে সচেতনভাবে কোনো কাজ করে। ঘুমন্ত ব্যক্তি শরয়ি দায়িত্বের আওতায় থাকেন না। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির কাছ থেকে কলম (আমল লেখার দায়িত্ব) উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। এক. ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত। দুই. অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত। তিন. মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি সুস্থ হওয়া পর্যন্ত।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৩৯৯)
এ হাদিসের আলোকে বোঝা যায়, ঘুমের মধ্যে সংঘটিত কোনো বিষয়ের জন্য মানুষের বিরুদ্ধে গুনাহ লেখা হয় না। তাই স্বপ্নে অশ্লীল কিছু দেখা, এমনকি যৌনস্বপ্ন দেখাও কোনো অপরাধ নয়। তবে জেগে ওঠার পর যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সেই স্বপ্নের কল্পনায় ডুবে থাকে বা হারাম কাজে লিপ্ত হয়, তখন সেটি আলাদা বিষয়।
দিনের কাজকর্ম স্বপ্নে প্রভাব ফেলতে পারে
মানুষের দৈনন্দিন জীবন তার স্বপ্নের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সারা দিন অশ্লীল ছবি, ভিডিও, অনৈতিক সম্পর্ক বা কুরুচিপূর্ণ বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকলে সেগুলোর প্রতিফলন ঘুমের মধ্যেও দেখা দিতে পারে। কারণ হাদিসে স্বপ্নের যে তিন প্রকারের কথা পাওয়া যায়, এর একটি হলো মানুষের নিজের চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন।
স্বপ্ন সম্পর্কে মহানবী (সা.)-এর নির্দেশনা
ইসলাম শুধু সমস্যার কথা বলেনি, সমাধানের পথও দেখিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমানোর আগে অজু করা, ডান কাতে শোয়া, আয়াতুল কুরসি, সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়া এবং আল্লাহর জিকির করার শিক্ষা দিয়েছেন। এসব আমল মানুষের অন্তরে প্রশান্তি আনে এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করে। যদি কেউ ভীতিকর বা অশ্লীল স্বপ্ন দেখে, তাহলে নববি নির্দেশনা হলো, শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা, বাম দিকে হালকাভাবে তিনবার ফুঁ দেওয়া এবং সেই স্বপ্ন মানুষের কাছে বর্ণনা না করা। এতে ওই স্বপ্ন কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭০৪৫)
.png)





