সাজানো মামলা করে জেলে গেলেন বাদী

হয়রানির উদ্দেশ্যে কাল্পনিক মামলা করেন শরিফুল ইসলাম ভুট্টো। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে তার পরিকল্পনার তথ্য। আদলতের জেরার মুখে তিনি সাজানো মামালার কথা স্বীকার করেন। অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক।
বুধবার (২৪ জুন) নওগাঁর অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-ইমরান এ আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম ভুট্টো নওগাঁ সদর উপজেলার চকগোয়ালী গ্রামের মৃত আহাদ আলী সরদারের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম ভুট্টো একই গ্রামের চারজন বাসিন্দাকে বিবাদী করে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩৪২, ৩২৩, ৩৭৯ এবং ৫০৬(২)/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আদালত জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দেন।
ডিবি তদন্তে নেমে জানতে পারে, বিবাদীদের সঙ্গে বাদীর শত্রুতা রয়েছে। তবে শুধু হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই মনগড়া ও মিথ্যা মামলাটি করা হয়েছে। পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পর আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বাদীর জবানবন্দি নেন। এ সময় অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-ইমরানের কাছে বাদীর বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
বিচারক বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে বাদীকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। আদালতের জেরার মুখে একপর্যায়ে বাদী শরিফুল ইসলাম স্বীকার করেন, তার করা মামলা ছিল সাজানো এবং কাল্পনিক।
আদালতের এপিপি রফিকুল ইসলাম জানান, মিথ্যা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত তাৎক্ষণিক দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় বাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। শরিফুল ইসলাম নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আদালত বাদীকে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়ে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।






