কম ক্যালরি, বেশি স্বাস্থ্য: খাদ্যাভ্যাস বদলান ৭ সহজ কৌশলে

আমরা সাধারণত মনে করি, আমরা নিজেরাই ঠিক করি কী খাব এবং কতটা খাব। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা অনেক বেশি জটিল। আমাদের চোখ, কান, নাক, এমনকি খাবার পরিবেশনের ধরনও আমাদের খাদ্যাভ্যাসকে প্রভাবিত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইন্দ্রিয়গত সংকেতগুলোকে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে অজান্তেই কম ক্যালরি গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য মনোবিজ্ঞানী চার্লস স্পেন্সের মতে, খাবারের স্বাদ শুধু জিহ্বার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আমাদের সব ইন্দ্রিয় এতে ভূমিকা রাখে।
নিচে গবেষণা ও আচরণবিজ্ঞানের ভিত্তিতে ৭টি সহজ কৌশল দেওয়া হলো
উজ্জ্বল প্যাকেজিং থেকে সতর্ক থাকুন
দোকানে খাবার কেনার সময় আমাদের সিদ্ধান্ত প্রথমে চোখের ওপর নির্ভর করে। উজ্জ্বল রং, চকচকে প্যাকেট বা আকর্ষণীয় ডিজাইন মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে, ফলে অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর খাবারও বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়।
ঘরে স্ন্যাকস বা বিস্কুট অস্বচ্ছ জারে রাখুন, যাতে প্যাকেটের আকর্ষণ আপনাকে অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার দিকে না টানে।
দোকানের শেলফের অবস্থান বুঝে চলুন
সুপারশপে সাধারণত চোখের উচ্চতায় সবচেয়ে বেশি লাভজনক ও আকর্ষণীয় পণ্য রাখা হয়। চেকআউটের কাছাকাছি থাকে চিপস, চকোলেটের মতো ইমপালস আইটেম।
শুধু চোখের সমান উচ্চতার শেলফ নয়, উপরের ও নিচের শেলফও দেখুন। সেখানে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর বিকল্প পাওয়া যেতে পারে।
ভারী প্লেট বা বাটি ব্যবহার করুন
খাবারের ওজনও আমাদের মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভারী প্লেট বা বাটি ব্যবহার করলে মানুষ বেশি তৃপ্তি অনুভব করে।
ফলে একই পরিমাণ খাবারেও মনে হয় বেশি খাওয়া হয়েছে, এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
সুন্দরভাবে খাবার সাজিয়ে খান
খাবারের উপস্থাপন স্বাদকে প্রভাবিত করে। রঙিন ও সুন্দরভাবে সাজানো খাবার মস্তিষ্কে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়।
প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন রঙের সবজি যোগ করুন এবং প্লেটে সুন্দরভাবে সাজিয়ে খান।
ধীর গতির সংগীত শুনুন
খাওয়ার সময় ধীর সুরের গান শুনলে মানুষ ধীরে খায়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি কমে।
খাবারের সময় শান্ত বা ধীর সুরের গান কিংবা প্রকৃতির শব্দ শুনতে পারেন।
খাবারের ভলিউম বাড়ান, ক্যালরি নয়
একই পরিমাণ খাবারে বেশি সবজি বা পানি যোগ করলে ক্যালরি কমে যায়, কিন্তু পেট ভরা অনুভূতি থাকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ফুলকপি বা পালং শাকের মতো সবজি মিশিয়ে খাবারের ক্যালরি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়, তবুও তৃপ্তি বজায় থাকে।
ডেজার্ট ‘আকর্ষণ’ থেকে সাবধান থাকুন
খাবারের পর মিষ্টি চোখের সামনে থাকলে পেট ভরা থাকলেও তা খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হতে পারে। এটাকে বলা হয় ‘dessert-stomach effect’।
তাই খাবারের পরে মিষ্টি খাবার সামনে না রাখা সবচেয়ে ভালো।
আমাদের খাদ্যাভ্যাস শুধু ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না। পরিবেশ, অভ্যাস এবং ইন্দ্রিয়গত সংকেতও বড় ভূমিকা রাখে। এই বিষয়গুলো বুঝে ছোট ছোট পরিবর্তন আনতে পারলে ধীরে ধীরে অজান্তেই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করা সম্ভব।
সূত্র: বিবিসি