নাশতায় সহজেই বানিয়ে নিন মোগলাই পরোটা

মোগলাই পরোটা নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সোনালি রঙের মচমচে পরোটা, যার ভেতরে থাকে ডিম, কিমা বা মাংসের সুস্বাদু পুর। এটি এমন একটি খাবার, যা সকালের নাশতা থেকে শুরু করে বিকেলের নাশতা কিংবা রাতের খাবার হিসেবেও সমান জনপ্রিয়। বাংলাদেশের পুরান ঢাকা এবং কলকাতার খাবারের সংস্কৃতিতে মোগলাই পরোটা বিশেষভাবে পরিচিত।
মোগলাই পরোটার ইতিহাস মোগল আমলের সঙ্গে জড়িত বলে মনে করা হয়। মোগল দরবারের সমৃদ্ধ ও মসলাদার রান্নার প্রভাব থেকেই এই খাবারের জন্ম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসে এবং স্থানীয় স্বাদ ও উপকরণের সঙ্গে মিশে আজকের পরিচিত মোগলাই পরোটায় রূপ নেয়। বর্তমানে এটি রাস্তার খাবার থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্টের মেনুতেও সমানভাবে জনপ্রিয়।
যা যা লাগবে
পরোটার খামিরের জন্য
- ময়দা ৩ কাপ
- লবণ ১ চা চামচ
- চিনি ১ চা চামচ
- তেল ৩ টেবিল চামচ
- কুসুম গরম পানি প্রয়োজনমতো
পুরের জন্য
- ডিম ৪টি
- মুরগির কিমা বা গরুর কিমা ২৫০ গ্রাম
- পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ
- কাঁচামরিচ কুচি ২ থেকে ৩টি
- আদা বাটা ১ চা চামচ
- রসুন বাটা ১ চা চামচ
- গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ
- গরম মসলা গুঁড়া আধা চা চামচ
- লবণ স্বাদমতো
- ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ
- তেল ২ টেবিল চামচ
- ভাজার জন্য
- তেল বা ঘি প্রয়োজনমতো
যেভাবে বানাবেন
প্রথমে একটি বড় পাত্রে ময়দা, লবণ, চিনি এবং তেল মিশিয়ে নিন। এরপর অল্প অল্প করে কুসুম গরম পানি দিয়ে নরম খামির তৈরি করুন। খামিরটি ঢেকে অন্তত ১ ঘণ্টা রেখে দিন।
এদিকে পুর তৈরি করে নিন। একটি প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি ভাজুন। এরপর আদা বাটা ও রসুন বাটা দিয়ে কষিয়ে নিন। কিমা যোগ করে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। কিমা থেকে পানি শুকিয়ে এলে লবণ, গোলমরিচ গুঁড়া এবং গরম মসলা গুঁড়া দিন। কিমা রান্না হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন।
একটি বাটিতে ডিম ফেটে নিন। এর সঙ্গে কিমা, কাঁচামরিচ কুচি এবং ধনেপাতা কুচি মিশিয়ে পুর তৈরি করুন।
মোগলাই পরোটা তৈরির পদ্ধতি
খামির থেকে সমান আকারের বল তৈরি করুন। প্রতিটি বল খুব পাতলা করে বেলে নিন। একটি সমতল জায়গায় বেলা রুটি রেখে মাঝখানে ডিম ও কিমার মিশ্রণ দিন। এরপর চারদিক ভাঁজ করে চৌকো আকৃতি তৈরি করুন।
একটি তাওয়া বা ফ্রাইপ্যানে পর্যাপ্ত তেল গরম করুন। সাবধানে পরোটাটি তুলে প্যানে দিন। মাঝারি আঁচে দুই পাশ সোনালি ও মচমচে হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। এরপর তুলে অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে নিন।
পরিবেশন: গরম গরম মোগলাই পরোটা টমেটো সস, চাটনি বা সালাদের সঙ্গে পরিবেশন করুন। অনেকেই এর সঙ্গে হালকা মসলাদার মাংসের ঝোলও পরিবেশন করেন, যা স্বাদকে আরও সমৃদ্ধ করে।
টিপস
- খামির যত বেশি সময় বিশ্রাম পাবে, পরোটা তত নরম হবে।
- রুটি যত পাতলা করে বেলা যাবে, পরোটা তত বেশি খাস্তা হবে।
- পুর দেওয়ার সময় অতিরিক্ত মিশ্রণ ব্যবহার করবেন না, তাহলে ভাজার সময় ফেটে যেতে পারে।
- মাঝারি আঁচে ভাজলে পরোটার ভেতর ও বাইরে সমানভাবে রান্না হবে।
- আরও সমৃদ্ধ স্বাদের জন্য ভাজার সময় সামান্য ঘি ব্যবহার করতে পারেন।
মচমচে বাইরের স্তর আর সুস্বাদু পুরের কারণে মোগলাই পরোটা আজও উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। ঘরে তৈরি এই ঐতিহ্যবাহী পদ পরিবারের সবাইকে নিয়ে উপভোগ করার জন্য হতে পারে একটি দারুণ পছন্দ।






