শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে: নাহিদ ইসলাম
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার দেখেছি, যিনি ডিসেম্বরে দেশে আসবেন আত্মসমর্পণ করবেন। আমরা জানি ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের মাস। ডিসেম্বরেই সবাই আত্মসমর্পণ করে। তো শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসবে, কী কবে আসবে, এটা বাংলাদেশ সরকারকে নির্ধারণ করতে হবে। তিনি আসবেন, আসা মাত্রই তাকে এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তার রায় কার্যকর করতে হবে।’

বুধবার (১৫ জুলাই) জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমদ অডিটোরিয়ামে জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘স্মৃতিগাঁথায় জুলাই বিপ্লবের দিনগুলি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট করা হয়েছে যে শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলার সময় একটা উনার স্বভাবসুলভভাবে একটা নোক্তা রেখেছেন, একটা ফাঁদ রেখেছেন। যে আপিল করা যাবে কিনা, সেটা আইন ব্যবস্থা নিবে। আপিল করা যাবে না। তিনি আসা মাত্র তাকে গ্রেপ্তার করে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। ফলে আমরা বিচারের ব্যাপারে অগ্রগতি চাই, এই সরকারের কাছ থেকে। শেখ হাসিনার মামলার রায় যখন হয়েছে, আপিল করার সুযোগ ছিল ৩০ দিন। সেই ৩০ দিনে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কেউ আপিল করে নাই। ফলে শেখ হাসিনার মামলার রায়ে কোনো আপিলের সুযোগ নাই। আমরা বিশ্বাস করি, সুপ্রিম কোর্ট, মহামান্য আদালত, কমপ্লিট জাস্টিস হিসেবে শেখ হাসিনার যে ফাঁসির রায়, সেই রায়কে বহাল রেখে সেটাকে কার্যকরের ঘোষণা দিবে।’

১৫ জুলাইয়ের ঘটনাবলির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই দিনের হামলাকারীদের তালিকা প্রকাশ এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তার দাবি, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। একইসঙ্গে যেসব শিক্ষক ওই হামলাকে সমর্থন বা বৈধতা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘জুলাই নিয়ে অবশ্যই রাজনীতি করতে হবে। কারণ নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি হচ্ছে জুলাইয়ের রাজনীতি। আমরা আর স্বৈরতন্ত্রে ফেরত যাব না। আমরা গণতন্ত্রে যাব। বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ চাই। আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ চাই। আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ চাই।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল আমিন, আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব মাহীন সরকার, যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবুবাকের মজুমদার।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিশুদের জন্য একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। আলোচনা সভা শেষে বিজয়ী শিশুদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।