ছাত্রশিবিরের অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান

‘পরিকল্পিত ব্যক্তি গঠন ও টার্গেটভিত্তিক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে’

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
‘পরিকল্পিত ব্যক্তি গঠন ও টার্গেটভিত্তিক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে’
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের দ্বিতীয় সাধারণ অধিবেশনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পরিকল্পিত ব্যক্তি গঠন ও টার্গেটভিত্তিক কাজ আরও জোরদার করতে হবে। তিনি বলেন, নামাজের প্রতি আন্তরিকতা, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, একাডেমিক উৎকর্ষ এবং সামাজিক ও সাংগঠনিক যোগ্যতার বিকাশের মাধ্যমে দক্ষ, আদর্শিক ও দায়িত্বশীল জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের দ্বিতীয় সাধারণ অধিবেশন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ অধিবেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট রাজধানীর বাড্ডা থানার সামনে পুলিশের গুলিতে শহীদ মো. রায়হান হোসেনের সম্মানিত পিতা মো. মোজাম্মেল হক। এরপর কেন্দ্রীয় সভাপতির উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।

অধিবেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এমপি এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, এমপি, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যক্তি গঠনই ইসলামী আন্দোলনের মূল ভিত্তি। তাই প্রতিটি দায়িত্বশীলকে নামাজের প্রতি আন্তরিক হতে হবে এবং তাহাজ্জুদ, সদকাসহ নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে হবে।

তিনি বলেন, ব্যক্তি জীবনের নৈতিক দৃঢ়তা ও আমলের ধারাবাহিকতা এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন একজন মানুষকে সমাজে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।

একইসঙ্গে পরিবারকেন্দ্রিক দাওয়াতি কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে পরিবারকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার কোনো বিকল্প নেই। যুগের চাহিদা অনুধাবন করে বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক ও সাংগঠনিক যোগ্যতার বিকাশ ঘটিয়ে পরিকল্পিত ব্যক্তি গঠন এবং লক্ষ্যভিত্তিক কাজ আরও জোরদার করতে হবে।

অধিবেশনে কেন্দ্রের ষাণ্মাসিক রিপোর্ট পর্যালোচনা, জেলা সংগঠনের সেটআপ অনুমোদন, ক্যাম্পাস পরিস্থিতি পর্যালোচনা, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এ সময় কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ২০২৬ সেশনের কার্যকরী পরিষদের উপনির্বাচনে নির্বাচিত ১২ জনের নাম ঘোষণা করেন। এছাড়া কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের পরামর্শক্রমে একজন সদস্যকে মনোনয়ন প্রদান করেন। পরে তিনি নবনির্বাচিত ও নবমনোনীত কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।

পরিশেষে বিদায়ী কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সভাপতির সমাপনী বক্তব্য এবং দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের দ্বিতীয় সাধারণ অধিবেশন-২০২৬-এর সমাপ্তি ঘটে।