logo

ঢাকা উত্তর যুবদলের নতুন কমিটিতে আলোচনায় যারা

আতিক হাসান
ঢাকা উত্তর যুবদলের নতুন কমিটিতে আলোচনায় যারা
ওপরে বাঁ থেকে মিজানুর রহমান রাজ, সাজ্জাদুল মিরাজ, জসিম শিকদার রানা এবং নিচে বাঁ থেকে আমিনুল ইসলাম, বাছিরুল রানা ও কামাল আহমেদ দুলু। গ্রাফিকস: এশিয়া পোস্ট

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্তির পর সম্ভাব্য নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন ১১ নেতা। এর মধ্যে সভাপতি পদে ছয়জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে পাঁচজনের ব্যাপারে আশাবাদী তাদের অনুসারীরা।

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে সম্প্রতি ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হকার, পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাদের নাম সামনে আসে। এর আগে রাতের আঁধারে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গুঁড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।

এ দুই ঘটনায় পল্লবী, মিরপুর ও দারুস সালাম এলাকায় বিএনপি ও যুবদলের নাম ভাঙ্গিয়ে ঝুট ব্যবসা, জবরদখল ও চাঁদাবাজির বিষয়গুলো নতুন করে সামনে আসে। এসব ঘটনায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে নতুন কমিটির সভাপতি পদে ছয়জনের নাম আলোচনায় থাকার কথা জানা গেছে। তাদের একজন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রাজ। ঢাকা উত্তর যুবদলের সদ্য সাবেক কমিটির সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজের নামও রয়েছে আলোচনায়। ঢাকা উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আবুল হাসান টিটুর ব্যাপারে আশাবাদী তার অনুসারীরা।

সভাপতি পদে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক জসিম শিকদার রানা আলোচনায় রয়েছেন। ঢাকা উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম স্বপনকেও দেখা যেতে পারে এই পদে। ঢাকা উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক তসলিম আহসান মাসুমকে নিয়ে আশাবাদী তার অনুসারীরা।

সভাপতি পদপ্রত্যাশী মিজানুর রহমান রাজ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সবসময় রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। আন্দোলন করতে গিয়ে আমার ও আমার পরিবারের ওপর বহু নির্যাতন হয়েছে। বহুবার গ্রেফতার হয়েছি, তবুও রাজপথ ছাড়িনি। দল নিশ্চয়ই আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে।’

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা উত্তর যুবদলের দুই সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম ও শিমুল আহমেদ। ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ও গুম ফেরত নেতা বাছিরুল ইসলাম রানার নামও রয়েছে আলোচনায়। রামপুরা থানা যুবদলের আহ্বায়ক কামাল আহমেদ দুলু এবং ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান রুয়েলের ব্যাপারে আশাবাদী তাদের অনুসারীরা।

সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী বাছিরুল ইসলাম রানা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি আমাকে যেখানে যোগ্য মনে করবেন, সেখানেই দায়িত্ব দেবেন। কমিটি পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। উপযুক্ত সময়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।’

সামগ্রিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোনায়েম মুন্না এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘শুধু ঢাকা মহানগর নয়, দেশের সব জেলা ও মহানগর কমিটি নিয়ে আমরা ভাবছি। রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনে আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং সে অনুযায়ী কাজ চলছে।’

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয় ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট। ওই কমিটিতে আহ্বায়ক ছিলেন শরিফ উদ্দিন জুয়েল। সদস্য সচিব ছিলেন সাজ্জাদুল মিরাজ।

এবার সংগঠন পুনর্গঠনে মাঠের ত্যাগী, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের মূল্যায়নের দাবি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। তারা বলছেন, নতুন কমিটিতে বিগত দিনে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ও নির্যাতিত নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধির স্বার্থে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া। বিএনপি এখন সরকার পরিচালনা করছে। তাই জনগণের প্রতি দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা বহুলাংশে বেড়েছে। যেসব কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে পুনর্গঠন করা হবে। ত্যাগী ও রাজপথে পরীক্ষিত নেতারা এসব কমিটিতে স্থান পাবেন।’