ছাত্রশিবিরের ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ জুলাই-আগস্টের সকল বীর শহীদ ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং শহীদদের হত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোটের ম্যান্ডেটকে বর্তমান সরকার ক্ষমতার মোহে অবজ্ঞা করছে। প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশ বাতিল করে বিচার বিভাগকে পুনরায় দলীয় আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক নৈরাজ্যের চিত্র তুলে ধরে শিবির সভাপতি বলেন, বর্তমান সরকারের ৫৯ শতাংশ সংসদ সদস্যই ঋণখেলাপি, যা রাষ্ট্রকে দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলেছে। এ সময় টিআইবি ও পুলিশের তথ্য উদ্ধৃত করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনে দেশজুড়ে ৯১৫টি খুন ও ২০৯টি ধর্ষণসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।
শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার উদ্বেগ
ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নূরুল ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস। কিন্তু সরকারদলীয় সংগঠন ছাত্রদল বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনে আবারও বর্বরোচিত সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্য হামলা চালানো হচ্ছে।
৩৬ দিনব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচিসমূহ
জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন থেকে ৩৬ দিনব্যাপী নিম্নোক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়—
‘অদম্য জুলাই’ আন্দোলন: গণভোটের রায়, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী মাসব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।
স্মৃতিচারণ ও প্রকাশনা: রক্তাক্ত জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে গল্প, উপন্যাস, গবেষণা প্রবন্ধ ও সাময়িকী প্রকাশ এবং জুলাই জাগরণ ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা।
প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: রাজধানীতে শিশুদের চোখে জুলাই জাগরণ শীর্ষক প্রদর্শনী, সারা দেশে আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন।
একাডেমিক ও প্রতিযোগিতা: সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, রিসার্চ কনফারেন্স, স্মৃতিলিখন, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা।
স্মৃতি সংরক্ষণ ও ক্রীড়া: নিজ নিজ জেলায় শহীদদের নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা, জুলাই শহীদ স্মৃতি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন।
শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে: শহীদ পরিবার ও আহতদের সাক্ষাৎকার নিয়ে “লাল জুলাই” পডকাস্ট, কবর জিয়ারত এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময়।
অনলাইন ক্যাম্পেইন: Echoes of July শিরোনামে ৩৬ দিনব্যাপী বিশেষ অনলাইন প্রচার।
নেতৃবৃন্দ জানান, এই কর্মসূচিসমূহ ছাত্রশিবিরের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর ও জেলা শাখার তত্ত্বাবধানে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে।
পরিশেষে, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ক্ষমতালিপ্সার কাছে অভ্যুত্থানের অর্জনকে ব্যর্থ হতে না দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ছাত্রসমাজ তথা দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষ করা হয়।





