চলচ্চিত্রে চীনের সংস্কৃতি ও জীবনদর্শন তুলে ধরলেন অধ্যাপক তু ইং

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
চলচ্চিত্রে চীনের সংস্কৃতি ও জীবনদর্শন তুলে ধরলেন অধ্যাপক তু ইং
চলচ্চিত্রে চীনের সংস্কৃতি ও জীবনদর্শন তুলে ধরলেন অধ্যাপক তু ইং। ছবি: সংগৃহীত

চীনা সিনেমা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং দেশটির সংস্কৃতি, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক পরিবর্তনের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চীনের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও জীবনধারা বিশ্বদরবারে গভীরভাবে ফুটে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন চীনের ইস্ট চায়না নরমাল ইউনিভার্সিটির চীনা বিভাগের অধ্যাপক তু ইং।

Advertisement

সোমবার (২৯ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে (আইএমএল) ‘রিড চায়না’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট (আইএমএল) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাই (এবিসিএ) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেমিনারে আইএমএলের চীনা ভাষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

মূল আলোচনায় অধ্যাপক তু ইং বলেন, ‘চীনা সিনেমায় মূলত চারটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। এগুলো হলো—খাদ্যসংস্কৃতি, পোশাক, ঐতিহ্যবাহী অপেরা এবং অ্যানিমেশন। এসব উপাদান শুধু সিনেমার সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং গল্প ও চরিত্রগুলোকে আরও অর্থবহ করে তোলে।’

তিনি বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক অ্যাং লির ‘ইট, ড্রিঙ্ক, ম্যান, ওম্যান’ সিনেমার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘এই চলচ্চিত্রে পারিবারিক নৈশভোজ কেবল একসঙ্গে খাওয়ার কোনো সাধারণ বিষয় নয়; বরং পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক, দায়িত্ব, ভালোবাসা ও প্রজন্মগত দূরত্বের এক অনন্য প্রতীক।’

চলচ্চিত্রে পোশাকের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি প্রখ্যাত পরিচালক ওং কার-ওয়াইয়ের ‘ইন দ্য মুড ফর লাভ’ সিনেমার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী ‘ছিপাও’ পোশাকটি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য ছিল না, বরং তা চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক আবেগ, সংযম এবং সেই সময়ের সামাজিক বাস্তবতারও প্রকাশ ঘটিয়েছে।

অধ্যাপক তু ইং আরও উল্লেখ করেন, চীনের ঐতিহ্যবাহী অপেরা দেশটির মার্শাল আর্টভিত্তিক চলচ্চিত্রের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। কিং হু পরিচালিত ‘আ টাচ অব জেন’ চলচ্চিত্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অপেরার নান্দনিক অভিনয়ভঙ্গি, শারীরিক অভিব্যক্তি ও সুনিপুণ দৃশ্যবিন্যাস চীনা মার্শাল আর্ট চলচ্চিত্রকে বিশ্বজুড়ে এক স্বতন্ত্র পরিচিতি এনে দিয়েছে।

সবশেষে তিনি বলেন, চীনা সিনেমা কেবল ঐতিহ্যকে সংরক্ষণই করে না, বরং আধুনিক যান্ত্রিক ও শৈল্পিক রূপান্তরের মাধ্যমে তা নতুন প্রজন্মের কাছে প্রতিনিয়ত জীবন্ত করে তুলে ধরছে।