শিশুর টিকা কার্ড দেখে কীভাবে বুঝবেন কোন টিকা দেওয়া হয়েছে

শিশুর জন্মের পর থেকেই তার সুস্থ বিকাশের জন্য বিভিন্ন টিকা দেওয়া হয়। প্রতিটি টিকার তথ্য স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা কার্ডে লিখে রাখেন। কিন্তু অনেক অভিভাবকই টিকা কার্ড হাতে পেলেও বুঝতে পারেন না সেখানে লেখা সংক্ষিপ্ত নামগুলোর অর্থ কী বা কোন টিকা কখন দেওয়া হয়েছে।
আসলে টিকা কার্ডটি ঠিকভাবে বুঝতে পারলে আপনি সহজেই জানতে পারবেন আপনার সন্তান কোন কোন রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে আর কোন টিকা নেওয়া বাকি আছে।
টিকা কার্ডে কী থাকে?
একটি শিশুর টিকা কার্ডে সাধারণত শিশুর নাম, জন্মতারিখ, টিকা দেওয়ার তারিখ, টিকার নাম বা সংক্ষিপ্ত কোড, পরবর্তী টিকার নির্ধারিত তারিখ ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা স্বাস্থ্যকর্মীর তথ্য উল্লেখ থাকে।
বর্তমানে অনেক টিকা কার্ডে কিউআর কোডও থাকে, যার মাধ্যমে ডিজিটাল রেকর্ড দেখা সম্ভব।
শিশুর বয়স মিলিয়ে নিন
জন্মতারিখ দেখে শিশুর বর্তমান বয়স কত মাস তা হিসাব করুন। এরপর নিচের বয়সভিত্তিক টিকার তালিকার সঙ্গে কার্ড মিলিয়ে দেখুন।
কোন বয়সে কোন টিকা হওয়ার কথা
বিসিজি (BCG), ওপিভি-0 (OPV-0) : জন্মের সময়
পেন্টাভ্যালেন্ট-১ (Pentavalent-1), পিসিভি-১ (PCV-1), ওপিভি-১ (OPV-1), আইপিভি-১ (IPV-1) : ৬ সপ্তাহ
পেন্টাভ্যালেন্ট-২ (Pentavalent-2), পিসিভি-২ (PCV-2), ওপিভি-২ (OPV-2) : ১০ সপ্তাহ
পেন্টাভ্যালেন্ট-৩ (Pentavalent-3), পিসিভি-৩ (PCV-3), ওপিভি-৩ (OPV-3) , আইপিভি-২ (IPV-2) : ১৪ সপ্তাহ
এমআর-১ (MR-1): ৯ মাস
এমআর-২ (MR-2): ১৫ মাস
টিকা কার্ডে লেখা সংক্ষিপ্ত নামগুলোর অর্থ কী?
টিকা কার্ডে অনেক সময় পুরো নামের বদলে সংক্ষিপ্ত কোড ব্যবহার করা হয়। এগুলোর অর্থ জানা থাকলে কার্ড বুঝতে সুবিধা হয়।
বিসিজি (BCG): এই টিকাটি যক্ষ্মা বা টিবি রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। সাধারণত জন্মের পরপরই দেওয়া হয়।
ওপিভি (OPV) : এটি ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন। মুখে খাওয়ানো হয় এবং পোলিও রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
আইপিভি (IPV) : এটিও পোলিও প্রতিরোধের টিকা, তবে এটি ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
পেন্টা বা পেন্টাভ্যালেন্ট (PENTA/Pentavalent): এই একটি টিকার মাধ্যমে পাঁচটি রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়া হয়- ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, টিটেনাস, হেপাটাইটিস বি এবং হিব সংক্রমণ। সাধারণত ৬, ১০ এবং ১৪ সপ্তাহ বয়সে এই টিকা দেওয়া হয়।
পিসিভি (PCV): নিউমোনিয়া এবং কিছু গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধে এই টিকা দেওয়া হয়।
এমআর (MR): এটি হাম এবং রুবেলা রোগ প্রতিরোধের টিকা। সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দেওয়া হয়।
এইচপিভি (HPV): বিশেষ করে কিশোরীদের জন্য ব্যবহৃত একটি টিকা, যা ভবিষ্যতে জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
টিকা দেওয়া হয়েছে কিনা বুঝবেন কীভাবে?
টিকা কার্ডে সাধারণত প্রতিটি টিকার পাশে একটি নির্দিষ্ট ঘর থাকে। টিকা দেওয়ার পর সেখানে তারিখ লেখা হয় অথবা টিক চিহ্ন দেওয়া হয়।
যদি কোনো টিকার ঘরে তারিখ লেখা থাকে, তাহলে বুঝবেন সেই দিনে টিকাটি দেওয়া হয়েছে।
উদাহরণ-
বিসিজি (BCG): ১৫-০৭-২০২৫
ওপিভি-১ (OPV-1): ২৮-০৮-২০২৫
পেন্টা- ১ (PENTA): ২৮-০৮-২০২৫
এখানে বোঝা যাচ্ছে শিশুটি উল্লিখিত তারিখগুলোতে সংশ্লিষ্ট টিকা পেয়েছে।
সবচেয়ে সহজ নিয়ম: টিকার নাম + ডোজ নম্বর + তারিখ = টিকা দেওয়া হয়েছে।
ঘর ফাঁকা থাকলে টিকাটি বাকি থাকতে পারে। বয়স অনুযায়ী কোন টিকা থাকার কথা, সেই তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই পুরো কার্ড বুঝে যাবেন।
কোন টিকা বাকি আছে তা কীভাবে জানবেন?
কার্ডে যদি কোনো টিকার ঘর খালি থাকে বা তারিখ লেখা না থাকে, তাহলে সেটি এখনও নেওয়া হয়নি অথবা নির্ধারিত সময় আসেনি। এ ছাড়া অনেক কার্ডে পরবর্তী টিকা দেওয়ার তারিখ আলাদাভাবে উল্লেখ করা থাকে। তাই নিয়মিত কার্ডটি দেখে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
যখন কার্ড বুঝতে সমস্যা হবে
এই ৪টি তথ্য নিয়ে নিকটস্থ EPI কেন্দ্র বা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান-
- শিশুর জন্মতারিখ
- টিকা কার্ডের ছবি
- কোন কোন ঘরে তারিখ আছে
- শেষ কবে টিকা দেওয়া হয়েছে
এ তথ্যগুলো দেখে স্বাস্থ্যকর্মী খুব সহজেই বলে দিতে পারবেন কোন টিকা সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনটি বাকি।
শিশুর টিকা কার্ড বুঝতে পারা প্রতিটি অভিভাবকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কার্ডে থাকা সংক্ষিপ্ত নামগুলোর অর্থ জানলে সহজেই বোঝা যায় কোন টিকা দেওয়া হয়েছে এবং কোনটি এখনও বাকি আছে। নিয়মিত টিকা কার্ড পরীক্ষা করলে শিশুর টিকাদান কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন করা আরও সহজ হয়।







