বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক দপ্তর উদ্বোধন করল মিশর

এশিয়া পোস্ট নিউজ, মিশর
বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক দপ্তর উদ্বোধন করল মিশর
বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘দি অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক ও কৌশলগত কমান্ড সদর দপ্তর ‘দি অক্টাগন’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করল মিশর। শনিবার (৪ জুলাই) নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এই অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদেল ফাত্তাহ-আল সিসি। মিশর সরকার এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক সামরিক কমান্ড এবং জাতীয় নিরাপত্তা সদর দপ্তর হিসেবে দাবি করছে।

দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে থেকে জানা যায়, রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এই সদর দপ্তরটি ‘স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড সেন্টার’ প্রকল্পের অংশ। এর মাধ্যমে মিশরের সামরিক বাহিনীর কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয় ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

প্রায় ৯২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল কমপ্লেক্সটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক স্থাপনা। এর বিশাল পরিসর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের চেয়েও বড় বলে দাবি করা হচ্ছে।

অক্টাগন নামটি এসেছে ভবনটির অনন্য স্থাপত্য নকশা থেকে। পুরো কমপ্লেক্সটি একাধিক অষ্টভুজ আকৃতির ভবনের সমন্বয়ে নির্মিত হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়, যা মিশরের সামরিক অবকাঠামো আধুনিকায়নের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।

নতুন সদর দপ্তরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের পাশাপাশি রয়েছে অত্যাধুনিক তথ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্র, কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ইউনিট এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক পরিচালনা সুবিধা।

এ ছাড়া কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে কর্মকর্তা ও কর্মীদের জন্য হোটেল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শপিং সেন্টার, হাসপাতাল এবং আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন সেবামূলক অবকাঠামোও নির্মাণ করা হয়েছে, যা এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক প্রশাসনিক নগরীতে পরিণত করেছে।

মিশর সরকার বলছে, অক্টাগন প্রকল্পের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

মিশর সরকার ইতোমধ্যে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে সব মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্থানান্তর সম্পন্ন করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড সদর দপ্তরের উদ্বোধনকে দেশটির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনা, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক নেতৃত্বের সক্ষমতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।